সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আলোর পথে ( নওমুসলিমদের গল্প) : মহিয়সী বিপ্লবী নারীদের জীবন কাহিনী ২

নওমুসলিমা হালিমা সা’দিয়ার সাক্ষাৎকার, সাক্ষাৎকার গ্রহণে-আসমা আমাতুল্লুাহ :

আমার মনে হয় মুসলিম বোনেরা ইসলামের মূল্য বুঝে না। তারাও এই প্রচলিত অপসংস্কৃতির মাঝে নিজ ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। কিছু মুসলিম মহল্লায় গেলে বুঝা কঠিন হয়ে যায়, এটা মুসলিম এলাকা না অমুসলিম এলাকা? পর্দাহীনতা ও বেহায়াপনা, এমনকি পাশ্চাত্যের ফ্যাশন অনুযায়ী তাঁরা চলছে। ইসলামের পূর্বের নারীদের ইতিহাস পড়া উচিত। আমি মনে করি এতে নারীদের  ওপর ইসলামের অনুগ্রহ অনুভব হবে এবং ইসলাম যে ফিতরত তথা স্বভাব ধর্ম তার মূল্যায়ন হবে।

আসমা : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
হালিমা : ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আসমা : আমি আম্মুর কাছে আগেই জানতে পেরেছি যে, আজ আপনি আসবেন। ভালোই হলো আপনি এসে পৌঁছেছেন। এ সুযোগে আপনার কাছে আপনার ইসলাম গ্রহণের মর্মান্তিক কাহিনীটি জানতে চাই। আপনি কি একটু শুনাবেন?
হালিমা : কেন? তাঁর তো সব জানাই আছে!

আসমা : ব্যাপারটা হলো, আমাদের জমিয়তে-শাহ ওলিউল্লাহ থেকে ‘আরমুগান’ নামে একটি উর্দূপত্রিকা প্রকাশিত হয়। আর তাতে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণকারী সৌভাগ্যবান ভাই-বোনদের সাক্ষাতকার ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হয়। যাতে পুরনো মুসলমান ভাই-বোনেরা তা  থেকে শিা লাভ করতে পারে।
হালিমা : আমার ঘটনা দ্বারা কী শিা লাভ হবে? আমি তো নিজেই আমার ঘটনা নিয়ে লজ্জিত। ঠিক আছে, কিছু জানতে চাইলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

আসমা : সংেেপ আপনার পরিচয় দিন?
হালিমা : দণি দিল্লীর এক হিন্দু পরিবারে আমার জন্ম। আমার পিতা ডি.ডি.আই-এ চীফ একাউন্ট্যান্ট পদে চাকুরি করেন। আমার তিন ভাই, তিন জনই পৃথক পৃথক মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আছেন। আমিও ইংরেজীতে এম,এ, করে কমিউনিকেশনে ডিপ্লোমা করেছি। আমিও এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ে সেক্রেটারী পোস্টে কাজ করি। আমি আমার ইসলামি নাম রেখেছি হালিমা। যদিও এই নামে খুব কম লোকেই ডাকে। বর্তমানে আমার বয়স ৩৩ বছর থেকে কিছু বেশি।

আসমা : আপনার ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে কিছু বলবেন?
হালিমা : ভারত সরকার সরকারী কর্মজীবিদের বিদেশি ভাষা শেখার জন্য একটি ইনিস্টিটিউট স্থাপন করেছেন। সেখানে অফিসের প থেকে আমাকে আরবি শেখার জন্য পাঠানো হয়েছিল। অধিকাংশ আরবি শিক ছিলেন মুসলমান। তাঁরা আরবির সাথে সাথে উর্দূও শেখাতে লাগলেন। আমার পিতা খুব ভালো উর্দূ জানতেন ও বলতেন। তাই আমি উর্দূ শিখতে গিয়ে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হইনি।
আমাদের শিকমণ্ডলীর মধ্যে একজন  ছিলেন ড. মুুহসিন উসমানী সাহেব। তিনি ছাত্রদেরকে আরবি শেখানোর পাশাপাশি ইসলামের সাথে পরিচয় করান এবং আরবি সম্পর্কে অল্প কিছু ধারণা হওয়ার পর আমাদেরকে কুরআনে হাকীম থেকে আরবি পড়াতে লাগলেন। ডঃ মুহসিন উসমানী সাহেব ঐ সময় দিল্লী ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন। তিনি আমাদের সকল আরবি শিার্থীকে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত ইসলামি বইপত্র দিলেন। আপনার পিতার রচিত বই ‘আপনার আমানত’ও এক কপি দিলেন। মূলত: বইটি  সহমর্মিতার ভাষায় লিখা হয়েছে। বইটি পড়ার পর কুরআন শরীফ-এর প্রতি আমার আকর্ষণ বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত  আল্লাহ আমাকে হেদায়াত দান করলেন। আমি ড. মুহসিন সাহেবকে সুসংবাদ দিলাম যে, আমি ইসলাম গ্রহণ করতে চাই। তিনি আমাকে কালেমা পড়ালেন। এরপর আমি ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানলাভ ও নামায ইত্যাদি শেখার জন্য নিজামুদ্দীন মারকাযে যেতে লাগলাম। সেখানে দণি হিন্দুস্তানের এক মাওলানা সাহেবের বাড়িতে গিয়ে নামায ইত্যাদি শিখতাম। সে সূত্রে অনেক মুসলমান মহিলার সাথে সম্পর্ক হয়। ফলে তাদের বাড়িতে আমার যাওয়া আসা শুরু হয়ে যায়।

আসমা : আপনার পরিবারের লোকেরা কি আপনার ইসলাম গ্রহণ করার কথা জানে?
হালিমা : না, এখন পর্যন্ত তাঁরা আমার ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারটি জানে না।

আসমা : আপনি  কি কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন?
হালিমা : এতে কোন সন্দেহ নেই যে, সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু এর চাইতে বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি আমি।

আসমা : আপনাকে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছে! আপনার সমস্যা কী একটু জানতে পারি?
হালিমা : আমার জীবনের সবচাইতে কষ্টকর দিক হলো, আমি কুরআনে হাকিম, আরবি শেখার একটি বই মনে করে পড়েছি। এটাতো কুরআনে হাকিমের অনুগ্রহ যে, এর মাধ্যমে আমার একমাত্র মালিক আল্লাহ তা’আলাকে চেনা সম্ভব হয়েছে এবং বাহ্যিকভাবে কালেমা পড়ে মুসলমান হওয়ার তৌফিক হয়েছে। কিন্তু কুরআন পাকের যে ধরনের বিশ্বাস হওয়া উচিত ছিলো এবং মৃত্যুর পর দোযখের  আগুন ও পাপের শাস্তির যে ভয় হওয়ার দরকার ছিলো সেটা মোটেও হয়নি। আমি এই নিয়তে খুব বেশি বেশি কালেমা পড়ি, যাতে পড়তে পড়তে হৃদয়ে বসে যায়। কিন্তু আমি পরিষ্কার অনুভব করি যে, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আমার গলার নিচে নামে না, শুধু মুখে মুখে মুসলমান হয়েছি। দেব-দেবীর পূজা আমার কাছে আশ্চর্য লাগে। কিন্তু ‘লা-ইলাহা’ বলে যেভাবে আল্লাহর বড়ত্বের সামনে অন্যকিছুর অসারতার ধারণা ভিতরে প্রবেশ করা উচিত তার আংশিকও আমার ভিতরে পাইনা; না দোযখের ভয়, না মৃত্যুর পরের হিসাব-নিকাশের ভয়। যেভাবে ভয় করা উচিত তেমন অবস্থা আমার ভিতরে পাই না।
আমি মুসলমান। আল্লাহ আমার উপর নামায ফরয করেছেন। নামায সময়মত না পড়তে পারলে কমúে কাযা আদায় করা করা উচিত। মৃত্যুর পরের শাস্তির খবরের ওপর বাহ্যিকভাবে বিশ্বাস আছে। তাই আমার প্রত্যেক অবস্থায় আমার নামায আদায় করা উচিত। কিন্তু আমার অবস্থা হলো এই, নিজর্নের অপোয় থাকি। সুযোগ পেলেই আমি নামায আদায় করে নেই। সুযোগ না পেলে কখনো কখনো কাযা হয়ে যায়। কেমন জানি মনে হয় যে, পরিবারের প্রতি আমার ভয় আল্লাহ ও দোযখের ভয়ের চাইতেও বেশি। এটা কি কোন ঈমান? আমি যখন নামায পড়ি, সেজদায় আমার খুব ভালো লাগে। তখন নিজেকে সবচাইতে স্থিতিশীল মনে হয় এবং প্রশান্তি অনুভব করি। আমার ইচ্ছা হয় যেভাবে মানুষ সেজদার অবস্থায় দুনিয়াতে ভূমিষ্ঠ হয়, সেভাবে সেজদারত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়। কিন্তু যেভাবে নিজের সমস্ত দুর্বলতা স্বীকার করার সাথে সাথে স্বীয় অস্তিত্বকে প্রভুর সামনে সোপর্দ করে দেওয়া উচিত সে ধরণের একটি সেজদাও আমার ভাগ্যে জুটেনি। কখনো কখনো আমার  পুরো রাত এ অস্থিরতায় কাটে যে, এই অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে তা হবে মুনাফিকের মৃত্যু।
তারা এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। [আল-ইমরান : ১৬৭]
এই আয়াতটি মনে হয় আমার জন্যই অবতীর্ণ হয়েছে।

আসমা : এটাইতো আপনার ঈমানের প্রমাণ। আচ্ছা, আপনার কি বিবাহ-শাদী হয়েছে?
হালিমা : আমার পারিবারিক অবস্থা এমন অনুকূল নয় যে, তারা কোন মুসলমান ছেলের সাথে আমার বিবাহ দেবে। তাই পরিবারের লোকদের কাছে প্রথমেই এ ব্যাপারে মা চেয়ে নিয়েছি। এখন আমি সঠিক ঈমানের দিকে মনোযোগী হয়েছি। তাই আমি চাচ্ছি কোনো দীনদার মুসলমান ছেলের সাথে আমার বিবাহ হোক; যাতে করে তার সাথে থেকে আমার প্রকৃত ঈমান অর্জিত হয়।
নিজামুদ্দিন মার্কাযের এক মাওলানা সাহেবকে আমি এ ব্যাপারে বলেছিলাম। তিনি আমাকে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। লোকটি বলল, আমি আপনাকে বিবাহ করতে প্রস্তুত আছি এবং আপনার ওপর কোন ধরনের বাধ্যবাধকতাও থাকবে না এবং আপনি আপনার পরিবারকে দেখানোর জন্য মন্দিরে যেতে চাইলেও যেতে পারবেন! বরং আপনি যদি বলেন তাহলে আমি আপনাকে মন্দিরে রেখে আসবো। তার কথায় আমি খুবই হতাশ হলাম যে, এই ব্যক্তি যখন নিজেই অর্ধেক হিন্দু হতে প্রস্তুত তাহলে আমার ঈমান আসবে কোথা থেকে? আমি এই প্রস্তাবকে নাকচ করে দিলাম। আমি শুধু এমন ব্যক্তিকেই বিবাহের জন্য বিবেচনা করতে পারি যিনি আমাকে ইসলামের ছোট থেকে ছোট বিষয়ের উপরও আমল করতে বলবেন।

আসমা : আপনিতো সরকারি চাকুরী করেন, আপনার চাকুরীর কি অবস্থা হবে? কেননা আপনাকে তো পর্দা করতে হবে?
হালিমা : আমি চাকুরী ছেড়ে দেবো। মহিলাদের জন্য চাকুরী করে উপার্জন করা এবং ঘর থেকে বের হওয়া বোঝা মনে করি। মহিলারা শিশুদের লালন-পালন করবে, বাড়ি-ঘরের  কাজ-কর্ম করবে, আবার চাকুরীও করবে? আল্লাহ তা’আলা তাদের শরীরকে দুর্বল বানিয়েছেন। তাদের জন্য চাকুরী স¤পূর্ণ অযৌক্তিক, পর্দাকে নারীর জন্য মৌলিক প্রয়োজন মনে করি। আমি অফিসে থেকে অমুসলিম নারীদের জন্যও পর্দাকে অনেক বড় নেয়ামত মনে করি। নারী যদি বেপর্দায় থাকে তাহলে তাকে পুরুষের কামনা-বাসনার দৃষ্টি সহ্য করতে হয়। এটা নারীর জন্য বড় লাঞ্ছনা ও লজ্জাজনক ব্যাপার। নারীদের কী হলো যে, তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছে!

আসমা : আপনি কি কুরআন শরীফ পড়েন?
হালিমা : এটাতো আল্লাহর দান। যখন থেকে মুসলমান হয়েছি অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে কালেমা পড়েছি ঐ দিন থেকে কুরআন শরীফের তেলাওয়াত ছুটেনি। আল্লাহর শুকরিয়া যে, পুরা আমপারা এবং সূরা মুল্ক, সূরা মুয্যাম্মিল, সূরা আর-রাহমান, সূরা ইয়া-সীন এবং সূরা আলিফ-লাম-মীম সিজদা মুখস্থ আছে। শয়ন কালে সূরা মুুল্ক এবং আলিফ লাম-মীম-সিজদা এবং সকালে সূরা ইয়াসীন তেলাওয়াত করি। আলহামদু লিল্লাহ! সূরা কাহফের অর্ধেক মুখস্থ করে  ফেলেছি। ইনশাআল্লাহ অচিরেই পুরোটা মুখস্থ করে ফেলব। জুমার দিনে সূরা কাহফ তেলাওয়াত করি এবং সালাতুত্তাসবীহর নামাজ আদায় করি। কখনো আবার বৃহস্পতিবারে রোজা রাখি। কিন্তু ঈমানবিহীন আমল দ্বারা কী কাজ হবে? আমি কুরআনে কারীমে গ্রাম্য মানুষদের অবস্থা পড়েছি।
‘মরুবাসীরা বলে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুন, তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিষ্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ্ মাশীল, পরম মেহেরবান।’     [সূরা হুজরাত : ১৪]
খুবই সত্য কথা! আমার মনে হয় এই আয়াতটি বোধ হয় শুধু আমার জন্যই অবতীর্ণ হয়েছে। তবে ঈমানের পূর্ণ আনুগত্য জরুরী ।

আসমা : আপনার অনুভূতি অনেক উচ্চস্তরের। আপনাকে দেখে ঈর্ষা জাগে, আমাদের অবস্থা এর চাইতে অনেক নিচে। আমাদের তো এর অনুভবও হয় না।
হালিমা : আপনি তো ছোট থেকেই মুসলমান, একজন বড় ঈমানওয়ালার মেয়ে। আপনি আমার অবস্থা বুঝতে পারবেন কীভাবে?

আসমা : আপনি আমাদের জন্য দু’আ করবেন। কেননা আল্লাহর সাথে আপনার সর্ম্পর্ক খুবই দৃঢ়।
হালিমা : হায়! আপনার কথা যদি সত্য হতো তাহলে আমার জীবন যে কতো সুন্দর হতো!

আসমা : আপনার জীবন খুব সুন্দর ও প্রশংসনীয়।
হালিমা : আল্লাহ আপনার কথায় বরকত দান করুন ।

আসমা : আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। জাযাকুমুল্লাহ! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
হালিমা : আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ! ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আসমা : আপনি কি মুসলমান বোনদের জন্য কিছু বলবেন?
হালিমা : আমার মনে হয় মুসলিম বোনেরা ইসলামের মূল্য বুঝে না। তাঁরাও এই প্রচলিত অপসংস্কৃতির মাঝে নিজ ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। কিছু মুসলিম মহল্লায় গেলে বুঝা কঠিন হয়ে যায় এটা মুসলিম এলাকা না অমুসলিম এলাকা। পর্দাহীনতা ও বেহায়াপনা, এমনকি পাশ্চাত্যের ফ্যাশন অনুযায়ী তাঁরা চলছে। ইসলামপূর্ব নারীদের ইতিহাস পড়া উচিত। আমি মনে করি এতে নারীদের ওপর ইসলামের অনুগ্রহ অনুভব হবে এবং ইসলাম যে ফিতরতের তথা স্বভাব ধর্ম তার মূল্যায়ন হবে।

#একটি দরিদ্র পরিবারের এক রাতের ত্যাগের বিনিময়ে হাজার হাজার রোমানিয়ান মুসলমান হয়েছেন.....

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বেড়াতে গেছেন রোমানিয়ান এক দম্পতি। একদিন একটি নির্জন বরফে ঢাকা পাহাড়ী এলাকা ঘুরতে যান তারা।

হাঁটতে হাঁটতে একসময় পাহাড়ী আঁকাবাঁকা রাস্তায় পথ হারিয়ে গেলেন ওই দম্পতি। পথ খুঁজতে খুঁজতে সন্ধ্যা নামলে দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা। দ্রুত অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে চারদিক। কনকনে শীত, সঙ্গে হিমেল হাওয়া আর অদ্ভুত একটা ভয় গ্রাস করে তাদের। চারদিকে পিনপতন নিরবতা। মাঝে মাঝে শিয়ালের হুক্কা হুয়া ডাকে পরিবেশটাকে আরো ভারি করে তুলছে। হঠাৎ দেখতে পেলেন দূরে কোথাও হালকা একটা আলো জ্বলছে। মনে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে তারা সেদিকে হাঁটতে লাগলেন। কাছে গিয়ে দেখলেন, একটি কুঁড়েঘর।

দরজায় টোকা দিতেই একজন জীর্ণ-শীর্ণ মধ্য বয়স্ক লোক দরজা খুলে দিলেন। অসময়ে অপরিচিত মানুষ দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেন গৃহকর্তা। আগন্তুক বিস্তারিত জানিয়ে লোকটির কাছ থেকে সহযোগিতা চাইলেন। অতি বিনয়ের সঙ্গে গৃহকর্তা তাদের ভেতরে এসে বসতে বললেন। কুঁড়েঘরে আরো ছিলেন লোকটির বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে।

আগন্তুক গৃহকর্তাকে হোটেলের কার্ড দেখিয়ে যাওয়ার উপায় জানতে চাইলেন। অন্ধকারে পাহাড়ী আঁকা-বাঁকা রাস্তায় কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হোটেলে যাওয়া এই মুহুর্তে নিরাপদ নয় বললেন গৃহকর্তা। রোমানিয়ান দম্পতি মহা পেরেশানিতে পড়ে গেলেন। গৃহকর্তা তাদেরকে কুঁড়েঘরে রাত যাপনের জন্য বিনীত অনুরোধ করলেন। গরিব লোকটি আগন্তুকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা এবং ঘুমানোর জন্য সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব ভালো ব্যবস্থা করলেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে রোমানিয়ান দম্পতি দেখেন, কুঁড়েঘরে একটি মাত্র রুম যাতে তারা ছিলেন।

‘তাহলে ৫ সদস্যের পরিবারটি গেলেন কোথায়’ আগন্তুকদের মনে প্রশ্ন জাগে।
তারা কুঁড়েঘরের আশে-পাশে খুঁজতে লাগলেন। একপর্যায়ে রোমানিয়ান স্বামী-স্ত্রীর দেখেন, দূরে একটি গাছের গোড়ায় কারা যেন শুয়ে আছে। কাছে গিয়ে দখেন, গরিব লোকটি বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে জবুথবু হয়ে শুয়ে আছে।

সারারাত এখানেই ছিলেন? গৃহকর্তার কাছে আগন্তুকের প্রশ্ন। হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়লেন তিনি। আর কোথাও থাকার জায়গা নাই বলে এখানেই ছিলেন, জানালেন লোকটি।

খ্রীস্টান দম্পতির চোখে-মুখে রাজ্যের বিস্ময়। স্বামী-স্ত্রী কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। রাজ্যের নিরবতা যেন গ্রাস করেছে চারিদিক।

কেন আমাদের জন্য সব ছেড়ে দিয়ে কনকনে ঠান্ডায়, বরফে ঢাকা গাছের গোড়ায় আশ্রয় নিলেন? আমরা তো আপনাদের আত্মীয় কিংবা পাড়া-প্রতিবেশী না। এমনকি আপনাদের ইসলাম ধর্মের অনুসারীও না। তাহলে কেন এই অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করলেন?
লোকটির ঝটপট উত্তর, পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরীফে মহান আল্লাহ বলেছেন, মানুষের সেবা করতে এবং কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করার জন্য কোরআনে বার বার বলা হয়েছে। আমরা আল্লাহর আদেশ পালন করেছি মাত্র। রোমানিয়ান দম্পতির চোখে পানি। কৃতজ্ঞতায় তাদের বুক ভরে গেল। কৌতূহলী হয়ে তারা জানতে চাইলেন, কোরআন শরীফে আর কী কী আছে?

আমি মুর্খ মানুষ। খুব বেশি জানিনা। আপনারা কোরআন কিনে পড়ে জেনে নিতে পারেন। লোকটির সরল স্বীকারোক্তি। রোমানিয়ান দম্পতি তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হোটেলে যাওয়ার আগেই লাইব্রেরীতে গিয়ে কোরআন সংগ্রহ করলেন। মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় অল্প ক’দিনে তারা পবিত্র কোরআন পড়া শেষ করলেন।

সৌদি আরবের ‘হুদা’ চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে রোমানিয়ান দম্পতি বলেন, ‘কোরআনের প্রতিটি পাতা পড়া শেষে মনের মধ্যে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হতো। সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিজের অজান্তে মাথা নুয়ে পড়ত। ভাবতাম, কতই না ভুলের মধ্যে ছিলাম এতদিন! এ এক অনন্য অনুভূতি ছিল, যা বলে বোঝানোর ভাষা নাই। প্রতিটি সূরা শেষ করে আকাশের দিকে তাকাতাম আর সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজতাম! কান্নায় বুক ভেসে যেত। তবুও ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম আকাশ পানে।’

কোরআন পড়া শেষে কালক্ষেপন না করে স্বামী-স্ত্রী ইসলাম গ্রহন করেন। তারা বলেন, কোরআনের মর্মবাণী যারাই উপলব্ধি করবেন, সে যে-ই হোক তার চেতনায় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।

রোমানিয়ায় ফিরে গিয়ে তারা একটি ইসলামিক সেন্টার খোলেন। পরিচিত, অপরিচিতদের মাঝে পবিত্র কোরআনের বাণী পৌছে দেবার ব্রতে স্বামী-স্ত্রী মানুষের দোরগোড়ায় গেলেন। ব্যাপক সাড়া পেয়ে দ্বিগুন উৎসাহে ইসলামিক সেন্টারের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে লাগলেন। তাদের অল্প কয়েকদিনের প্রচারণায় প্রায় চার হাজার রোমানিয়ান ইসলাম গ্রহন করেন।

পাদটিকাঃ একটি দরিদ্র পরিবারের এক রাতের ত্যাগের বিনিময়ে কেবল একটি দম্পতি ইসলাম গ্রহন করেননি, হাজার হাজার রোমানিয়ান মুসলমান হয়েছেন। এটাই নবীজির (সা.) শিক্ষা।

আসুন, আমরা কোরআন বুঝে পড়ি। কোরআনের মর্মার্থ অনুধাবনের চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ এবং রাসূল (সা.) এর নির্দেশনা মেনে জীবন পরিচালিত করি এবং মানুষের সেবা করি; সবধরনের ভণ্ডামি পরিহার করি। সত্যিকারের ঈমানদার হই। তাহলে ওই গরিব লোকটির মতো আমরাও কামিয়াব হবো।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

(সৌদি আরবের ‘হুদা’ চ্যানেলে দেয়া ওই রোমানিয়ান দম্পতির সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।
collected from Abu Afroz


##কন্যার ইসলামে ধর্মান্তরের প্রতি সমর্থন জানানো অমুসলিম চীনা পিতার গর্ববোধ

সিঙ্গাপুর: এটি বাস্তব সত্যি যে, একজন কন্যার জন্য তার পিতার ভালোবাসার চাইতে বড় কিছু হতে পারে না। আর একজন সমর্থনকারী পিতার এই হৃদয়স্পর্শী গল্প আপনার মন ছুঁয়ে যাবে যিনি শুধুমাত্র তার কন্যা সুখী হওয়ার প্রার্থনা করেন।

লি জিনগহান নামের সিঙ্গাপুর-চীনা বংশোদ্ভূত একজন নারী চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ফেইসবুকে একটি গল্প শেয়ার করেন যেখানে দেখা তার পিতার সাথে একজন মালয়েশিয়ান লোকের কথোপকথন হচ্ছে। সেখানে তার পিতা মালয়েশিয়ান লোকটিকে ব্যাখ্যা করে বলছেন যে, কেন তিনি তার কন্যার ইসলাম ধর্ম গ্রহণকে অনুমোদন করেন।

২৯ বছর বয়সী এই নারীর বর্তমান নাম হচ্ছে- নুর জিহান লি।

এত সবকিছুর শুরু হয়েছিল যখন তার পিতা লি সুন কুন একজন মালয়েশিয়ান Carousell(সিঙ্গাপুরের একটি সামাজিক মার্কেটপ্লেস যেখানে লোকজন তাদের জিনিসপত্র বিক্রয় এবং ক্রয় করতে পারেন) বিক্রেতার সাথে নুর জিহান লির পরিচয় করিয়ে দেন যাতে তিনি তার পক্ষ হয়ে কিছু পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

কিন্তু মালয়েশিয়ান বিক্রেতাটি নুর জিহান লির পিতাকে দেখে অবাক হয়ে যান কেননা তিনি ধারণা করেছিলেন লোকটি একজন মালয়েশিয়ান হবেন।
লি সুন কুন, নুর জিহান লির বাবা এ কথা জানতে পেরে মালয়েশিয়ান বিক্রেতাটি আরো অবাক হয়ে যান, কারণ লি সুন কুন তার কন্যার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ অনুমোদন করেছেন। তার ধারণা অধিকাংশ চীনা পিতামাতা এমন উন্মুক্ত মনের অধিকারী নন।

নুর জিহান লি তার ফেইসবুকে তার পিতা এবং মালয়েশিয়ান বিক্রেতার সাথে হওয়া কথোপকথনটি প্রকাশ করেন যেখানে লির পিতা তার সম্পর্কে বলেন, ‘সাদামাঠা, আমি এখনো তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি।’

এর পরে তিনি বলেন, ‘আমি সুখ সাধনা সম্পর্কে গভীরভাবে অনুভব করি। জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি? সুখ খুঁজে বেড়ানো।’

নুর জিহান লির পিতা আরো বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। যদি তুমি আমায় বল যে, এই ধর্ম তোমাকে সুখী করেছে তবে আমি তোমাকে বাধা দান করবো কেন?’

এর পরে নুর জিহান লি তার ফেইসবুকে বলেন, ‘সমাজ এ সম্পর্কে ঠিক কি ভাববে তিনি তা নিয়ে চিন্তিত নন, তিনি একইভাবে আমাদের আত্মীয় স্বজন আমার ইসলাম গ্রহণ করাকে কিভাবে মেনে নিবে তা নিয়েও চিন্তিত নন, আর এর মাধ্যমে আমি আমার পিতার সাথে তার প্রিয় বার্বি কিউ খাওয়ায় অংশ নিতে পারবো না তা সম্পর্কে কি আসে যায় তাতেও তিনি বিচলিত নন। তার মূল উদ্বিগ্নতা আমার সুখী হওয়া নিয়ে।’

নুর জিহান লির ফেইসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যেই ৫,০০০ বারের বেশী শেয়ার হয়েছে এবং তাতে ১৪,০০০টি লাইক করা হয়েছে একই সাথে সত্যের পথে অবিচল থাকার জন্য সাধুবাদ জানিয়ে নুর জিহান লিকে উদ্দেশ্য করে অনেক মন্তব্য করা হয়েছে। আর তার পিতাকে লির প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেয়া হয়েছে।

নিচে নুর জিহান লির ফেইসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো:
গত সপ্তাহে আমার পিতা আমার কাছে জানতে চেয়েছিল যে, আমি ‘Carousell’ কোনো কিছু নিতে চাই কিনা। আমি তার সাথে একটি চুক্তি করেছিলাম এবং আমার ঠিকানা দিয়েছিলাম।

যখন তিনি আমাদের ঠিকানায় আসেন, তিনি খুবই দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন কারণ তিনি ভেবেছিলেন আমরা মালয়েশিয়ান হব।
তিনি (Carousell) বলেন: আপনারা চীন দেশের? আমি ভেবেছিলাম আপনারা মালয়েশিয়ান!

আমার পিতা বলেন: না, সে আমার মেয়ে।
লোকটি বলেন: কিন্তু আপনার মেয়ে হিজাব পরিধান করে আছে। আপনারা চীনা মুসলিম, না?

আমার পিতা উত্তরে বলেন, আমার মেয়ে চীনা মুসলিম, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে (আমার পিতা এখনো মুসলিম এবং ইসলাম এ দুটোকে আলাদা করতে পারছেন না)।

লোকটি বলেন: ওয়াও! আপনি তাকে ইসলাম গ্রহণ করতে অনুমোদন দিয়েছেন? তাকে থামান নি?

আমার পিতা বলেন: কখনোই নয়, আমি তাকে সমর্থন করি!

লোকটি বলেন: ওয়াও, আপনি আসলেই খুব ভালো। কিন্তু কেন আপনি সমর্থন করেন?

আমার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে লোকটির আগ্রহ দেখে আমার পিতা খুব পুলকিত অনুভব করলেন। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন যে, ‘কেন লোকজন এ কথা জানতে পেরে অবাক হয়ে পড়ে যে, আমি তোমাকে ইসলাম গ্রহণে অনুমোদন দিয়েছি?’

আমি এর উত্তরে বলেছিলাম: ‘কারণ আপনার মত মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! বেশীরভাগ পিতামাতা তাদের সন্তানদের ধর্মান্তরকে মেনে নেন না। সত্যিকার অর্থে, বাবা কেন তুমি আমাকে ধর্মান্তরিত হতে অনুমোদন দিয়েছ?’

আমার পিতা উত্তরে বললেন: কারণ আমি জীবন সম্পর্কে সত্যটা অনুভব করি। কারণ আমি জীবনের সুখ সাধনা অনুভব করতে পারি। জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি? সুখ খুঁজে বেড়ানো। ভিন্ন ভিন্ন লোক ভিন্ন ভিন্ন জিনিসে সুখ খুঁজে পায়। কেউ সুখ খুঁজে পায় সম্পদে, কেউ পরিবারে, কেউ কেউ ধর্মে…
পিতামাতা সবসময় কি চায়? তারা চায় যাতে তাদের সন্তানরা সুখে থাকে।

প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। যদি তুমি আমাকে বল যে, এই ধর্ম তোমাকে খুশি করেছে, তবে কেন আমি তোমাকে বাধা দিব?


## অন্ধকার জগত থেকে মার্কিন ফটোগ্রাফার নিকোল কুইনের ইসলাম গ্রহণ করার গল্প



টেক্সাস: আমেরিকান মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট নিকোল কুইন একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম, ১৯৮১ সালে হিউস্টনের এক খ্রিস্টান পরিবারে তার জন্ম। তিনি পেশায় একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার।

আমেরিকার শহর হিউস্টন, অরেঞ্জ এবং টেক্সাসে বড় ভাই জোয়ের সঙ্গে তার ছোটবেলার অধিকাংশ সময় কেটেছে। ৮ বছর বয়সে নিকোল ও তার ভাই জোয়ি তাদের পালিত বাবা-মা’র সঙ্গে ডালাসের দক্ষিণে অবস্থিত একটি ছোট্ট শহরে চলে আসেন এবং তার স্নাতক শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।

১৭ বছর বয়সে নিকোল ‘পামার হাই স্কুল’ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং তার জীবন শুরু করার জন্য নিজের অ্যাপার্টমেন্টে চলে যান। নিকোল তার নিজের ব্যয়-ভার বহনের জন্য ফটোগ্রাফির ওপর কোর্স করেন এবং ফটোগ্রাফি স্টুডিওতে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

মাত্র দুই বছরে মধ্যে নিকোল একটি ফটোগ্রাফি স্টুডিও পরিচালনা করতে সক্ষম হন এবং বিভিন্ন রাজ্যে ভ্রমণ করতে থাকেন। টানা কয়েক বছর শহর থেকে শহরে ছুটে বেড়ানোর পর তিনি নিউইয়র্কে একটি স্টুডিও পরিচালনা করতে শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে নিকোল তার দক্ষিণের শিকড়কে অনুভব করেন এবং নিজের ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করার জন্য টেক্সাসে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

তার নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এবং কাজের জন্য বিভিন্ন শহরে ভ্রমণে নিকোল একটি অস্থায়ী জীবনধারার স্বাদ লাভ করেন। তিনি যেখানেই থাকতেন না কেন, সেখানে তিনি কখনো তার শিকড় রাখতেন না এবং নিজের জীবনকে একটি বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখেন।

সামাজিককরণের ক্ষেত্রে নিকোল ছিলেন অত্যন্ত স্বাভাবিক একজন মানুষ। বিভিন্ন শহরে তার বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অত্যন্ত দ্রুত বন্ধু তৈরি করতে শিখেন এবং তা অতি দ্রুত ছুড়ে ফেলেও দিতেন।

তিনি ‘নাইটলাইফ’ দৃশ্যকে তার নিজের ফটোগ্রাফি ব্যবসায় ফোকাস করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে তিনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। তিনি খুব দ্রুতই ডালাসের একমাত্র নারী ‘নাইট লাইফ’ ফটোগ্রাফার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং পার্টি শিল্পের বড় বড় ক্লায়েন্টস অর্জন করেন।

ফটোগ্রাফি ব্যবসার কারণে জাস্টিন টিম্বারলেক, টিম্বারল্যান্ড, কেট হুডসন, টমি লি’র মতো নামকরা অগণিত ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা ও মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রতিটি রাতে নিকোল বিভিন্ন ক্লাবে রাত ৩টা পর্যন্ত কাটাতো এবং দুপুর পর্যন্ত ঘুমাতো। মদ্যপান ছিল তার একটি স্বাভাবিক অভ্যাস এবং এটি তার জীবনধারার অংশ হয়ে ওঠে।

এভাবে নিকোলের আত্মা অনুভূতি হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। তার জীবনে আরো বেশি কিছুর প্রত্যাশা করেন এবং জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে অন্যদের সঙ্গে গভীর কথোপকথনে নিজেকে জড়িত করতেন। ক্লাব, পার্টি ও লোভের দ্বারা পরিবেষ্টিত বহু বছরের বস্তুবাদী জীবনধারার পর নিকোল আত্মার সন্ধান শুরু করেন এবং মাত্র দুই বছরের মাথায় তিনি ইসলামি বিশ্বাসে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানত না।

জীবনের অর্থ খোঁজার সময় পৃথিবীর সব অংশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বন্ধুরা তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এক রাতে শুটিং শেষে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তার সঙ্গে বন্ধু তৈরি করেন। তার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম ছিলেন। কিন্তু তারা সবাই একই ভাবে নিকোলের মতোই জীবন-যাপন করতেন।

ধর্মীয় মানুষ হিসাবে তারা কখনো নিকোলের মনোযোগ আকর্ষন করত না। তার নতুন আত্মার অনুসন্ধানের দুঃসাহসিক যাত্রায় তার নতুন মুসলিম বন্ধুটি তার সঙ্গে ঘন্টার পর ঘণ্টা কথা বলতেন। তারা জীবন, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সম্পর্কে কথা বলতেন এবং তারা উভয়েই তাদের বর্তমান অবস্থানের চেয়ে বিশ্বকে আরো বেশি কিছু অফার করার অনুভূতি অনুভব করতেন।

নিকোল অনেকগুলো উৎস থেকে ইসলাম সম্পর্কে শুনেছেন কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রভাবটি এসেছে ইসলামের সঙ্গে তার প্রকৃত অভিজ্ঞতা থেকে। ইসলামি বিশ্বাসের শৃঙ্খলা তাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে।

মদ্যপান না করেই কিংবা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত না হয়ে কীভাবে মুসলমানরা তাদের জীবনযাপন করতে পারে এবং ক্লাব-পার্টিতে সময় নষ্ট না করে তারা তাদের জীবনকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে- তা নিকোলের মনে বিস্ময়ের জন্ম দেয়।

তিনি অনলাইনে ইসলামের সঙ্গে নিজেকে আবিষ্ট করে ফেলেন। ইসলাম গ্রহণকারী মুসলমানদের সম্পর্কে জানতে কখনো কখনো তিনি সমস্ত রাত পার করে সূর্যোদয় পর্যন্ত ইউটিউবে ভিডিও দেখছেন। ইসলাম গ্রহণকারী এসব মুসলমানদের কাহিনী তার জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল কারণ এই লোকেরা একই ধরনের আকাঙ্খার কারণে তারা ইসলামের শান্তি খুঁজে পেয়েছিল।

ইসলাম নিয়ে নিকোলের ক্রমবর্ধমান নানা প্রশ্ন আর তার মনোযোগের বিষয়টি বেশ ভালভাবেই খেয়াল করেন ওই মুসলিম যুবকটি। তিনিই তাকে প্রথম ইংরেজি ভার্সনের একটি কোরআন উপহার দেন। এছাড়াও, মসজিদের মুসলিম শ্রেণির সম্পর্কে তিনি নিকোলকে ধারণা দেন। ইসলামের সৌন্দর্যের জন্য নিকোলের প্রশংসা যুবকটিকে উৎসাহিত করে নিকোলকে ইসলামের সঙ্গে আরো বেশি ঘনিষ্ট করে তুলতে।

একসময় তারা ধীরে ধীরে তাদের ঘনিষ্টতা কমিয়ে দেন এবং প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব উন্নতির দিকে ফোকাস করার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবে মাসের পর মাস পেরিয়ে যেতে থাকে এবং ধীরে ধীরে নিকোল তার জীবনের জন্য ভালবাসা অনুভব করতে থাকেন এবং তার হৃদয়ে ঈশ্বরের ভাবনা গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে কঠোর পরিবর্তন দেখে তার পার্টির বন্ধুরা বিভ্রান্ত হয়ে যান।

টানা ৫ থেকে ৬ মাস ইসলাম নিয়ে অধ্যয়নের পর নিকোল তার জীবনে উন্নতি দেখতে পায়। ইতোমধ্যে তার হৃদয়ে কালেমা ‘শাহাদা’ ঘোষণার অনুভূতি জাগ্রত হয় এবং নিকোল সিদ্ধান্ত নেয় যে বিষয়টি অন্যদের কাছে ঘোষণার জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন।

লজ্জা ও অস্বস্তিকর অবস্থা দূর করতে পরামর্শের জন্য তিনি তার পুরানো মুসলিম বন্ধুটির শরণাপন্ন হন। তখনো পর্যন্ত তার ইসলামের অধ্যয়নে নিবেদিত থাকার বিষয়ে মুসলিম বন্ধুটি অবাক হয়ে যান এবং অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে তিনি তার ইসলাম গ্রহণের সব আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেন।

ইতোমধ্যে নিকোল কয়েকজন মুসলিম নারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করেন। তিনি তার মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের কক্ষে প্রবেশ করেন। কালেমা শাহাদা পাঠের জন্য তাকে প্রস্তুত করতে ওই নারীরা তাকে সাহায্য করেন। নিকোলের কথায় ‘তারা ছিল খুবই হেল্পফুল’ এবং এজন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন।

কালেমা পাঠের জন্য নিকোল লম্বা একটি সাদা লিনেন স্কার্ট পরেন এবং মাথায় হিজাব পরিধান করেন। নতুন বান্ধবীরা তাকে ওজু এবং স্কার্ফ পরতে সাহায্য করেন। ডাঃ ইউসুফ জিয়া কাভাসি নামে তুর্কি বংশোদ্ভূত একজন ইমাম তাকে কালেমা পাঠ করান।

ইসলামের প্রথম এই যাত্রায় নিকোলের চোখ-মুখে গোলাপী আভা ফুটে ওঠে। শাহাদা পাঠের আগে ইমাম তার কাছে জানতে চান-তিনি যা করতে যাচ্ছেন তা সুস্থ মস্তিস্কে করছেন কিনা। এরপর ইমাম তার নিকট কালেমার অর্থ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি তাকে ইংরেজি ও আরবি উভয় ভাষাতেই কালেমা পাঠ করান।

ইসলাম গ্রহণের পর নিকোলের জীবন পুরো বদলে যায়। তিনি তার ‘নাইটলাইফ’ ফটোগ্রাফির কাজ ছেড়ে দেন এবং ডালাসের শহরতলিতে একটি বৃহৎ কর্পোরেশনে ডে শিফ্টের নতুন চাকরি খুঁজে পান।

ইসলামের প্রতি তার দৃঢ় একাগ্রতা তাকে মহান আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তার সম্পর্ক বৃদ্ধি পেতে থাকে। একদা মদ্যপান ও পার্টিতে সময় কাটানো নিকোল এখন ইসলাম সম্পর্কে আরো বেশি করে জানতে তার নতুন মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং মসজিদে গিয়ে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।

শাহাদা ঘোষণার কয়েক মাস পর নিকোল ইসলাম সম্পর্কে আরো জানার গভীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। এজন্য তিনি একটি মুসলিম দেশ সফর করার জন্য দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। আমেরিকার বাইরে অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা তার ছিল না।

নিকোল বলেন, ‘মুসলিম দেশে বসবাসকারী মানুষেরা কিভাবে জীবন যাপন করে, কেমন করে ধর্ম-কর্ম করে একজন মুসলিম হিসাবে সে সম্পর্কে আরো জানতে চেয়েছিলাম।’

নিকোল তার এই আকাঙ্ক্ষার কথা তার একজন মুসলিম ছেলে বন্ধুর কাছে জানান। ওই বন্ধুটি জর্ডানে তার পরিবারের কাছে নিকোলের ইচ্ছার কথাটি জানান এবং জর্ডান সফরে নিকোলকে তার পরিবারে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। ২০০৮ সালের নভেম্বরে নিকোল প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন।

মধ্যপ্রাচ্য সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একাকি জর্ডান সফরের ব্যাপারে আমি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি সেখানকার খুঁটিনাটি সবকিছুই দেখতে চেয়েছিলাম। এটা খুবই মজার ছিল কারণ যারা আমাকে দেখেছিল, তারা ধরেছিল যে আমি জর্ডানেরই নাগরিক।’

সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেখানকার অধিকাংশ মেয়েই হিজাব পরিধান করে। আমিও চেয়েছি তাদের মতো করে এটি পরতে। সেখানে আমার অতিথি মায়ের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। তিনিও হিজাব পরতেন এবং আমাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন।’

তার অতিথি পরিবারটি তাকে তাদের মেয়ের মতোই আদর করত এবং তাকে তাদের পছন্দের রেস্টুরেন্ট, দোকান এবং কফি হাউসে নিয়ে যেত।

আম্মানের নতুন পরিবেশে হিজাবে নিকোল তার নিজেকে অত্যন্ত পবিত্র অনুভব করেন এবং অন্যদের কাছ থেকে অনেক প্রশংসা কুড়ান। এটি তার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। নিজ দেশে ফিরে গিয়ে হিজাব চেড়ে দেয়ার চিন্তাটি তিনি ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন।

নিকোল বলেন, ‘মাত্র ৩০ দিনের জন্য যদি কেউ হিজাব পরিধান করে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি তিনি এটি কখনো ছাড়তে পারবেন না। এটি তার অন্তরে অন্যরকম সুখের অনুভূতি নিয়ে আসবে।’

নিকোল জর্ডান থেকে টেক্সাসে ফিরে আসেন এবং তার জর্ডানী মুসলিম বন্ধুটির সঙ্গে তার নতুন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব ছিলেন। সকালে ফজরের নামাজের জন্য মুসলিম বন্ধুর মা তাকে প্রতিদিন জাগিয়ে তুলতেন এবং সূর্যাস্তের সময় তাদের আম্মানের শ্বেত পাথরের ঘর থেকে তাকে সূর্যের বিভিন্ন রঙের বর্ণালী দেখাতেন। এসব বিষয় তিনি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করেন।

আজ থেকে ৪ বছর আগে নিকোল ইসলামে ধর্মান্তরিত হন এবং এটি এখনো তার কাছে নতুন অনুভূতি জন্ম দিচ্ছে বলে তিনি জানান। তার মুসলিম বন্ধুটি পরে তার নিজের ব্যক্তিগত যাত্রা শুরু করেন এবং মক্কা থেকে হজ করে ফিরে আসার পরই তিনি নিকোলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার পরিবারের সম্মতিতে জর্ডানের রাজধানী আম্মান তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

হাসান (নিকোলের মুসলিম বন্ধু) এবং নিকোল দম্পতি বর্তমানে ডালাস শহরের টেক্সাসে অত্যন্ত সুখেই বাস করছেন। নিকোল তার স্বামীর সহায়তায় দাওয়াতের মাধ্যমে তার জীবনের উদ্দেশ্য অব্যাহত রেখেছেন। দাওয়াতি কাজের জন্য তিনি তার নিজস্ব ওয়েবব্লগ চালু করেছেন, www.QueensofIslam.com

নিকোল তার ব্লগে বলেন, ‘আমার ইসলামে ধর্মান্তর যাত্রায় আমি যে সকল সমস্যার মোকাবেলা করেছি, তা যাতে অন্যরা না করে-এই উদ্দেশ্য নিয়েই আমার এই দাওয়াতি ব্লগ।’

এছাড়াও তিনি আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে দাওয়াত, ইসলামে ধর্মান্তর, জনগণের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্কে নিয়মিত কথা বলেন।

আল জাজিরার ‘ইসলাম ইন আমেরিকা’, আলজেরিয়া টিভির ‘দ্য চুজ ইসলাম’ এবং রাষ্ট্রদূত আকবর আহমেদের ‘জার্নি ইন্টু আমেরিকা’ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে নিকোলকে তুলে ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি নিকোল ও হাসান আমেরিকায় ইসলাম সম্পর্কে বিবিসির ডকুমেন্টারিটিতে অংশ নেন। ডকুমেন্টারিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আপনি চাইলে নিকোলের ফ্যামিলি ব্লগ অনুসরণও করতে পারেন। নিকোলের ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে।



##খ্রিস্টধর্ম থেকে দারলা আবু শানাবের ইসলাম গ্রহণ এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প



ওয়াশিংটন: দারলা আবু শানাব যুক্তরাষ্ট্রের মিনিসোটা রাজ্যের ডেট্রোয়েটে লেক শহরে বড় হয়েছেন। তার রয়েছে সুন্দর অবয়ব, উজ্জ্বল নীল চোখ আর জার্মান এবং স্কান্ডেনেভিয়ান যোগসূত্র। কিন্তু এত কিছুর পরেও তিনি একজন মুসলিম এবং ইসলাম ধর্ম নিয়মিত চর্চা করেন।

তিনি তার জার্মান দারলা সেচসিটজার নাম নিয়ে একজন খ্রিষ্টান হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। তবে বর্তমানের মত তিনি অতীতে তার জীবনের এরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হননি।

১৯৯০ সালের প্রথম দিকে তিনি একজন মুসলিম পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আর তাদের বর্তমানে চার সন্তান রয়েছে।

দারলা আবু শানাব তার নতুন ধর্ম সম্পর্কে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বিয়োগান্তক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে চান।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি অন্য সবার মতই ছিলাম কিন্তু হঠাৎ করেই আমি কর্ম ক্ষেত্রে হিজাব পরিধান করতে শুরু করি। আমার সহকর্মীগণ বলেছিলেন তারা আমাকে সমর্থন করেন এবং আমাকে ভালোবাসেন।’

২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখে দারলা আবু শানাব তার কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরিধান করে আসতে শুরু করেন। দিনটি ছিল এমন একটি যোগসূত্রের মত যাকে এখন তিনি তার বিশ্বাসের জন্য একটি পরীক্ষা বলে মনে করেন।

তার এমন সিদ্ধান্তের পরবর্তী সপ্তাহ জুড়ে তাকে তার ধর্ম বিশ্বাসের পরিবর্তন সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

কিন্তু এর ১০ দিন পরে ১১ সেপ্টেম্বর আসল আর তা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের জন্য অবিশ্বাসের আগুন জ্বালিয়ে দিল, একই সাথে দারলা আবু শানাব তাৎক্ষণিকভাবেই এর উত্তাপ টের পেতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি সে দিনটির কথা স্মরণ করে এখনো কান্না করি কারণ সেদিন আমার স্বামী আমাকে ফোন কল করেছিল অথচ আমি ছিলাম মিশিগান শহরে আর আমার সন্তান ছিল একটি মসজিদের ধর্মীয় সেবা কেন্দ্রে।’

মূহূর্তে গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, লোকজন মুসলিমদের ধরে ধরে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে পেটাতে শুরু করেছে। সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের পূর্বেই তার মন ভয়ে কাতর হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে আমার হিজাব খুলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি বলেছিলাম, এটি আমাকে দশ বছর পরে আজকের এই দিনে নিয়ে এসেছে, হতে পারে এটি আমার জন্য কোনো পরীক্ষা।’

তার কর্মক্ষেত্র, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে সমর্থন দিয়েছিল কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উড়ন্ত পতাকা হাতে নিয়ে এক ব্যক্তি তাকে হুমকির সুরে কথা বলেছিল। তিনি বলেন, ইসলাম গ্রহণের পরে ঐ দিনের মত অনেক ঘটনাই আমার জীবনে অনেকবার ঘটেছিল।

একজন মুসলিম নারী হিসেবে তিনি শালীন পোশাক পরিধান করেন, প্রতিদিন প্রার্থনা করেন, মদ্য পান পুরোপুরি ত্যাগ করেন আর রমজান মাসে উপবাস থাকেন। কিন্তু এসব কিছু ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে তার ভাষায়- ‘আমি অতীতে যা ছিলাম এখনো তাই রয়ে গিয়েছি।’

তিনি বলেন, প্রথম প্রথম উপবাস করতে আমার খুব কষ্ট হতো, কিন্তু চূড়ান্তভাবে আমি একে পুরষ্কারের প্রতিদান স্বরূপ নিয়েছি।

ইসলাম গ্রহণের পূর্বে দারলা আবু শানাব দুটি মিউজিক ব্যান্ডের গায়িকা ছিলেন, এর একটি হচ্ছে জেসিকা আর অন্যটির নাম হচ্ছে কাশ্মীর যারা রক এন্ড রোল গানের জন্য বিখ্যাত।

তিনি পুল খেলা পার্টিতে তার স্বামীর সাথে পরিচিত হন। তার ভাষায়- ‘তিনি সেখানে এসেছিলেন বসন্তের ছুটি কাটাতে আর তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন- ওহে, কেমন চলছে?’ আর এর পরে যা ঘটেছে তা তো ইতিহাস তৈরী করেছে।

তারা ১৯৯০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দারলা আবু শানাব সে সময় অমুসলিম ছিলেন।

এর পরে তার স্বামীর সাথে প্রচুর আলোচনার পরে তিনি এবং তার স্বামী একমত হন যে, ইসলাম ধর্ম আর খ্রিষ্টান ধর্মের মধ্যে প্রচুর মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এর পূর্বে মুসলিমদের সম্পর্কে আমার ধারাণা ছিল তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করে, কিন্তু আমার স্বামী আমাকে জানান যে, এটি একটি ভুল ধারণা এবং ইসলামের রীতি হচ্ছে যদি স্ত্রী কোনো অর্থ উপার্জন করে তবে তাতে হাত দেয়ার অধিকার স্বামীর নেই।’

দারলা আবু শানাবের কয়েকটি উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি হচ্ছে সকল শ্রেণীর লোকজনের সাথে মেশা এবং তাদের মধ্য থেকে ইসলামভীতি দূর করার চেষ্টা চালানো।

তিনি বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত হচ্ছ অপরের প্রতি দয়ালু হওয়া এবং একে অন্যের খোঁজ খবর নেয়া। আপনি বামপন্থী কি ডানপন্থী তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমরা যাকে তোয়াজ করি তা হচ্ছে আমাদের একে অপরের প্রতি ভালো আচরণ করতে হবে।’

বর্তমানে তার অবসর সময় কাটে অভিবাসীদের শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে। গত বছর তিনি নয় সদস্যের একটি পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যাদের পিতা আইএসআই কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েন।

তার স্বামী একজন ফিলিস্তিনি যিনি কুয়েতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তিনি একটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে প্রযুক্তি বিষয়ক পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।

তারা ডেট্রোয়েটে শহরের একটি উপশহরের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।


##‘হিজাবের সৌন্দর্য দেখেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি’

ফরাসি নও মুসলিম লায়লা হোসাইন ইহুদি থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, হিজাবের সৌন্দর্য দেখেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি এবং বেছে নিয়েছি পরিপূর্ণ হিজাব।লায়লা হোসাইন বলেছেন, ‘মুসলমানদের সম্পর্কে সব সময়ই এক ধরনের ভীতশ্রদ্ধা ছিল আমার মধ্যে। আমি এভাবেই বড় হয়েছি। কিন্তু আমি সব সময়ই হিজাব পরা মুসলিম নারীদের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম। তাদের পবিত্রতা ও বিনম্রতা আমাকে মুগ্ধ করত।’

তিনি বলেছেন, ‘কোরআন ছিল আমার প্রথম অনুপ্রেরণা। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ আমি পেয়েছি তা থেকে বুঝতে পেরেছি যে, ইসলাম সত্য ও খাঁটি ধর্ম। কারণ, এ ধর্ম সব নবী-রাসুলকেই শ্রদ্ধা করে। আর আমার দৃষ্টিতেও এটা খুবই যৌক্তিক।ধীরে ধীরে আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয় যে ইসলামের শুধু বাহ্যিক দিক নয়, আছে অভ্যন্তরীণ দিকও। তাই ভেতর থেকেও ইসলামকে রক্ষা করতে হবে।’

লায়লা হোসাইন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘হিজাব পরার মাধ্যমে আমি নিজেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছি-এই ভেবে আমার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। কারণ, ফ্রান্সে হিজাব নিষিদ্ধ। স্কার্ফ বা ওড়না মাথায় দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যাওয়া এ দেশে নিষিদ্ধ,

ফলে হিজাবধারীকে সামাজিক অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয়। শুধু বিশেষ পোশাক পরার কারণে আমি আমার সামাজিক জীবনকে বিপদাপন্ন করেছি বলে আমার পরিবার মনে করত। এ অবস্থা মেনে নেয়া তাদের জন্য খুবই কষ্টকর ছিল।’

‘তারা মনে করত আমি আমার মুসলমান হওয়ার বিষয়টি হিজাবের মাধ্যমে প্রকাশ না করলেই ভালো হতো। ইসলামের প্রতি আমার বিশ্বাস কেবল মনের মধ্যে লালন করলেই তা যথেষ্ট হতো বলে তারা মনে করত। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, পবিত্র কোরআনে ও রাসূল (সা.) এর অনেক হাদিসে বা সুন্নাতে হিজাবের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মুসলিম পরিচয়ের জন্যেও যে তা জরুরি তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছ কোরআন-হাদিসে।তাই হিজাব পরিত্যাগ করতে রাজি হইনি আমি। আমার কাছে হিজাব শুধু হাত ও মাথা ঢাকার বিষয় নয়, বরং এর চেয়েও বড় কিছু।‘




##ইতালির এমপি কন্যার ইসলাম গ্রহণে দেশজুড়ে তোলপাড়

আওয়ার ইসলাম: ইতালির সাবেক একজন পার্লামেন্ট সদস্যর মেয়ের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে দেশটিতে এখন চলছে তোলপাড়।

ম্যানুয়েলা ফ্রাংকো বারবাতো নামের এ তরুণীর নতুন নাম আয়েশা ইসলাম গ্রহনের পর ইসলামের অনুশাসন তিনি মানছেন। পূর্ণাঙ্গ হিজাবী এ নারী ইতালির এক সাবেক এমপি ফ্রাংকো বারবাতোর মেয়ে। তিনি তার বাবার খ্রিষ্টধর্ম থেকে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন বলে জানা যায়।

ম্যানুয়েলার এ ইসলাম গ্রহণের ঘটনা এখন ইতালিতে আলোচনার বিষয়। খ্রিষ্টান উগ্রপন্থীরা কঠোরভাবে সমালোচনা করছেন তার। সমালোচনা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না তার বাবাও।

ফ্রাংকো বারবাতোকে হাফিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার মেয়ে তো মুসলমান হয়ে গেল, এখন আপনার কেমন লাগছে? তার উত্তর ছিল, ‘শুধু খারাপ না, খুবই খারাপ লাগছে।

আয়েশা ইসলাম গ্রহণ করতে পেরে খুবই আনন্দিত, সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমার আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য আমি গর্বিত। এসব আল্লাহর নিয়ম, আমার অভিযোগ করার কী আছে?’ নিজের হিজাব পরিধান নিয়ে চারপাশে যত কথা।

তার উত্তরে আয়েশা বলেন, ‘হিজাব আমার জীবনের অংশ, যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করে দিয়েছেন।’ আয়েশা আগে বাবার সাথে থাকলেও প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার পর তার স্বামীকে নিয়ে ভারতে চলে গেছেন।

সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের গ্রাজুয়েশন করছেন। বিবাহিত জীবনে তার দুই শিশু সন্তান রয়েছে।

ইতালিতে ১৭ লাখ মুসলমানের বসবাস। ইতালি সরকারী সংস্থার হিসাবে দেশটিতে প্রায় বিশ হাজার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

ইতালির এই চিত্র প্রমান করে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান ধর্ম হিসাবে ইসলামের প্রসার ঘটছে। সূত্র: রয়টার্স

Our islam

##সিলেটি যুবককে বিয়ের জন্য ক্যাথলিক মেয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

কিছুদিন আগে ইতালির সাবেক একজন পার্লামেন্ট সদস্যর মেয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে দেশটিতে তোলপাড় হয়েছে। ম্যানুয়েলা ফ্রাংকো বারবাতো নামের এই তরুণীর এখন নতুন নাম আয়েশা। এবার ইতালিতে এক বাংলাদেশি যুবককে মুসলমান হয়ে বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন এক ক্যাথলিক মেয়ে।

জানা গেছে, ওই কনের নাম জোভান্না। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর নাম পরিবর্তন করে খাদিজা হয়েছেন। সম্প্রতি ইতালি প্রবাসী ওই বাংলাদেশের সিলেটের যুবকের সঙ্গে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশে যেখানে হঠাৎ করে একটি বিয়ের আয়োজন করা যায় কিন্তু ইতালীয়ানরা বিয়ের দিন ঠিক করে অনেক আগে থেকেই। তারপর শুরু হয় বিয়ের আয়োজন। যেমন- নব দম্পতিরা তাদের পছন্দমত একটি ঘর দেখেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে কি কি খাবার পরিবেশন করা হবে তা নির্ধারণ করা, হানিমুনের পরিকল্পনা, বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি হল ভাড়া করা ইত্যাদি।

বাংলাদেশে বিয়েতে ঢালাওভাবে আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করা হলেও ইতালিতে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে দু-পরিবারের একান্ত আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব ছাড়া অপরিচিত কাউকে দাওয়াত করা হয় না। যাদের দাওয়াত দেয়া হয়, তারা আবার কয়েক মাস আগে থেকে বিয়েতে উপস্থিত থাকতে হয়। যারা যারা উপস্থিত থাকবেন তাদের নাম এবং তাদের পরিবারের সদস্য অনুযায়ী খাবারের টেবিল সাজানো হয়। তাই এখানকার বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিদের সংখ্যা খুব একটা হয় না।

বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বর কনে বেরিয়ে পরে বিয়ের ছবি ভিডিও করার জন্য সুন্দর, মনোরম কোন স্থানের উদ্দেশ্যে। তারপর সন্ধ্যায় বিয়ের অনুষ্ঠানের হলে আসেন। তাদের হলে প্রবেশের সাথে সাথে করতালির মাধ্যমে উপস্থিত অতিথিরা স্বাগতম জানান। তারপর শুরু হয় খাওয়া দাওয়ার পর্ব। ইতালিতে বিয়ের খাবার পরিবেশনা আমাদের দেশের প্রচলিত বিয়ের খাবার পরিবেশনা থেকে সম্পূর্র্ণ আলাদা। এখানে অতিথিদের প্রথমে ব্যুফে পরিবেশন করা হয়- তারপর মেইন ডিস, তারপর সেকেন্ড ডিস। তারপর বর-কনের সাথে অতিথিরা নাচেন। এরপর বর-কনে বিয়ের কেক কাটেন। তারপর আবার সবার জন্য মিষ্টি, কেক, ফলমূলের ব্যুফে পরিবেশনের মাধ্যমে বিয়ের দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। তবে বিয়ের শুরু থেকেই সবার জন্য শ্যাম্পেন ও অন্যান্য পানীয়ের ব্যবস্থা থাকে।

তবে এ বিয়ে হয়েছে অনেকটা আলাদাভাবে। সকালে এক মসজিদের ঈমাম তাদের বিয়ে পড়ান। তারপর বর-কনে পৌরসভায় গিয়ে তাদের বিয়ে সম্পূর্ণ করেন। বিয়েতে হালাল খাবার-দাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে মেক্সিকান, আরাবিয়ান, সিসিলিয়ান হরেক রকম খাবারে সাথে ছিল সমুচা, কাবাব, বিরিয়ানী, পিয়াজুসহ নানান রকম বাংলাদেশি খাবারের আইটেম ছিল।

তবে এ বিয়ে হয়েছে অনেকটা আলাদাভাবে। সকালে এক মসজিদের ঈমাম তাদের বিয়ে পড়ান। তারপর বর-কনে পৌরসভায় গিয়ে তাদের বিয়ে সম্পূর্ণ করেন। বিয়েতে হালাল খাবার-দাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে মেক্সিকান, আরাবিয়ান, সিসিলিয়ান হরেক রকম খাবারে সাথে ছিল সমুচা, কাবাব, বিরিয়ানী, পিয়াজুসহ নানান রকম বাংলাদেশি খাবারের আইটেম ছিল।

বিয়ে বাড়ি থেকে শুরু করে বাসর ঘর সাজানো পর্যন্ত সব কিছুতেই ছিল দেশীয় স্পর্শ। এগুলো সব কনের পক্ষের আত্মীয়রা ইন্টারনেটে দেখে দেখে সাজিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ইতালিতে ১৭ লাখ মুসলমানের বসবাস। ইতালীল সরকারি সংস্থার হিসাবে দেশটিতে প্রায় বিশ হাজার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইতালির এই চিত্র প্রমাণ করে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান ধর্ম হিসাবে ইসলামের প্রসার ঘটছে।

Inqilab.....


##মসজিদের প্রেমে পড়ে ইসলাম গ্রহণ, হত্যার হুমকিতেও অনড় সুইডিশ কিশোরী


আওয়ার ইসলাম: মসজিদের সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন সুইডেনের কিশোরী রোঞ্জা অ্যান্ডারসন। এরপর থেকে তিনি তার দেশের অজ্ঞাতদের কাছ থেকে অব্যাহতভাবে নানা ভয়ংকর হুমকি-ধমকি পেয়ে আসছেন। কিন্তু হত্যার হুমকিতেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল, ‘কোনও অবস্থাতেই ইসলাম ত্যাগ করবো না’।

গত সোমবার রাতে সুইডেনের একটি টিভি অনুষ্ঠানে হাজির হন রোঞ্জা; ওই অনুষ্ঠানের নাম ‘ট্রল হান্টার’। ওই অনুষ্ঠানেই এসব কথা জানান সুইডেন অনুর্ধ্ব-১৯ মহিলা ফুটবল দলের এ গোলরক্ষক।

ওই অনুষ্ঠানে ১৯ বছর বয়সী রোঞ্জা জানান, ‘তুর্কির একজন ছেলেবন্ধু ছিল আমার। ওই বন্ধুর মাধ্যমে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ হয়। এরপর ওই পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানাশোনাও শুরু করি।’

রোঞ্জা আরও জানান, ‘যখন আমি ওই পরিবারের সাথে তুরস্কে ছিলাম, তখন নানা মসজিদ এবং এর সৌন্দর্য দেখেই মূলত ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম। পরে আমার ওই বন্ধুর পরিবারের কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক নানা কিছু জেনে আমি নিজে নিজে এ নিয়ে পড়াশুনা শুরু করি। এরপর যতদূর সম্ভব ভালোভাবে জেনেবুঝে আজ থেকে প্রায় ৭ মাস আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি।’

রোঞ্জা আরও জানান, ‘ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আমি শান্তিপূর্ণ একটা জীবন পেয়েছি এবং তা যাপন করছি। এখন প্রতিদিনই আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি পবিত্র কোরআন তোলাওয়াত করি। এ ছাড়া, সপ্তাহে দুই দিন নিয়ম করে রোজাও পালন করি।’

তিনি বলেন, ‘মুসলমান হতে পেরে আমি গর্বিত এবং মহান আল্লাহের কাছে কৃতজ্ঞ। যত বিপদ-ই আসুক না কেন, আমি বাকি জীবন ইসলামের সঙ্গেই আছি।’

Our islam/06/02/2019


#মুসলমান হতে পেরে গর্বিত : সিনিড ও’কনর

AmaderIslam.COM

অক্টোবর ২৬, ২০১৮

আমিন মুনশি : প্রখ্যাত আইরিশ গায়িকা সিনিড ও’কনর সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন শুহাদা।

টুইটারে দেয়া এক বার্তায় তিনি তাকে সাহায্য করার জন্য অন্য মুসলমানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত ‘যেকোনো বুদ্ধিমান ধর্মতত্ত্ববিদের সফরের স্বাভাবিক পরিণতি।’

তিনি নিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাকে আজান দিতে দেখা যাচ্ছে।

১৯৯০ সালে রিলিজ করা ‘নাথিং কমপেয়ার্স টু ইউ’ গানটির জন্যে তিনি সবচেয়ে সুপরিচিতি পেয়েছিলেন। ওই বছরের সবচেয়ে হিট গানের তালিকায় ছিল এই গানটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার শেখ ড. উমর আল-কাদরী নামের একজন আইরিশ ইমাম একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গায়িকা সিনিড ও’কনর ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য কলেমা পাঠ করছেন।
অন্যদিকে টুইটার বার্তায় আইরিশ গায়িকা দাবি করে বলেছেন, সব ধর্মশাস্ত্রের অধ্যয়ন শেষ পর্যন্ত ইসলামের দিকেই ধাবিত হয়। তিনি আরো বলেন, তিনি একজন মুসলমান হতে পেরে গর্বিত। সূত্র: বিবিসি বাংলা

#ইসলামগ্রহণ করলেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটির তিন অধ্যাপক


ইসলামগ্রহণ করলেন- বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং শান্তির ধর্ম হল ইসলাম। তবে সবাই এটিকে বুঝতে পারে না। কিন্তু যারা যারা দুনিয়াতে এর মহত্ত্ব বুঝতে পারে কেবল তারাই চলে আসে এই ধর্মে।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব নাইজেরিয়ার (এইউএন) তিন মার্কিন অধ্যাপক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তারা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকান মেরিন অফিসার এবং এইউএন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রধান লিয়নেল রলিনস, এইউএন ইউনিভার্সিটির প্রিন্টিং প্রেসের ডিরেক্টর এবং পরভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার গ্যাব্রিয়েল ফস্টার এবং ট্রিসন পরভিস।

নাইজেরিয়ার আদামাওয়ার প্রদেশের রাজধানী ইয়োলাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। ইসলাম গ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ইমাম উস্তাজ দাউদা বেলো তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন নতুন এই তিন মুসলিমকে স্বাগত জানান এবং একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

ইসলাম গ্রহণকারী ওই তিনজন বলেন, ধর্মের ওপর ভালভাবে গবেষণা করার পর ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইসলামই জীবনের সেরা পথ বলে আমরা বিশ্বাস করি।


##স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্ত্রী ও ৩ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন পলাশ কুরি (৩২)। পলাশের বর্তমান নাম আবদুর রহমান। তিনি উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাড়ির বাসিন্দা। স্বপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় তাদের জন্য উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া করা হয়। আবদুর রহমান স্বপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় উপজেলার পদ্মা ইলেক্ট্রনিক্সের মালিক আনোয়ার তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এছাড়া রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির উদ্দিন জীবকা অর্জনের জন্য আবদুর রহমানকে একটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে পলাশ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণকারী বাকিরা হলেন- পলাশের স্ত্রী শিখা রানী কুরি, মেয়ে অন্বেষা রানী কুরি, উর্সি রানী কুরি ও ছেলে আবির চন্দ্র কুরি। ধর্ম পরিবর্তন হওয়ার পরে তাদের বর্তমান নাম হচ্ছে আবদুর রহমান, তার স্ত্রী সুমাইয়া বেগম, মেয়ে আয়েশা আক্তার, খাদিজা আক্তার ও ছেলে মো. ইব্রাহিম। জানতে চাইলে আবদুর রহমান জানান, বুঝ-জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই ইসলাম ধর্মের প্রতি তিনি দুর্বল ছিলেন। বিয়ে করে সংসার জীবন ভালোই চলছে। তার সংসারে দুই-মেয়ে ও এক ছেলে আছে। সম্প্রতি তিনি তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছাটি স্ত্রীকে জানান। বিষয়টি জানার পর তার স্ত্রী তাকে অনুপ্রাণিত করেন। এরপর তিনি অনেকদিন ধরে মুসলমানদের রীতিনীতি পর্যালোচনা করেছেন। মহান আল্লাহ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। সেই বিশ্বাস থেকেই গত বৃহস্পতিবার তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্যাহ জানান, কিছুদিন আগে আবদুর রহমান ইসলাম ধর্মের বিষয়টি তাকে জানান। বিষয়টি শুনে তিনি আবদুর রহমানকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি স্বপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

##কুরআনের সৌন্দর্য আমাকে বিমুগ্ধ করছে: জাপানি নওমুসলিম নাকাতা

২০১৯-০২-১৭ ১৯:৪১ বাংলাদেশ সময়



নওমুসলিমদের আত্মকথা অনুষ্ঠানের এ পর্বে জাপানি নওমুসলিম নারী 'কাওয়ারায়ি নাকাতা'র মুসলমান হওয়ার কাহিনী এবং ইসলাম সম্পর্কে তাঁর কিছু বক্তব্য ও চিন্তাধারা তুলে ধরা হলো:

'... আধ্যাত্মিক পরিবেশের আকর্ষণ আমাকে টেনে নিল মসজিদের ভেতরে। আমি ধীরে ধীরে পা ফেলছিলাম। আমার কানে ভেসে আসছিল এক বিশেষ আহ্বান বা সুসংবাদ। তাতে বলা হল যে তুমি শিগগিরই সত্যকে খুঁজে পাবে।' –এ কথাগুলো বলেছেন জাপানি নওমুসলিম নারী  'কাওয়ারায়ি নাকাতা'। তিনি সত্যকে পেয়েছিলেন অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর। নাকাতা কখনও ভাবেননি যে সত্যকে এভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে

জাপানি নওমুসলিম নারী  'কাওয়ারায়ি নাকাতা' কখনও স্রস্টা সম্পর্কে তেমন মনোযোগ দিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেননি। এমন ভাবনার দরকার ছিল বলেও ভাবেননি কখনও। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: 'আমার জীবনের সব কিছুই চলছিল ভালভাবে। আমি সৌভাগ্য অনুভব করতাম। কখনও আল্লাহর অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি। কিন্তু হঠাৎ আবিস্কার করি যে, আমার জীবন পুনরাবৃত্তিতে  একঘেয়ে হয়ে আছে ও জীবনের কোনো অর্থ নেই। তখন থেকেই সত্যকে খুঁজতে থাকি। নানা ধর্মের প্রচারকরা আমার বাসায় এসেছেন বেশ কয়েকবার। সে সময় খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের জন্য একজন মহিলা নিয়মিত আমার বাসায় আসতেন। তিনি আমাকে বাইবেল শেখাতেন ও আমিও খুব আগ্রহ নিয়ে তা শিখতাম। কিন্তু আমি যার খোঁজ করছিলাম তা পেলাম না।”

নওমুসলিম মিসেস নাকাতা আরো বলেছেন: 'আমি বসবাস করতাম কিয়েটো নামক ঐতিহাসিক শহরে। এই শহরে রয়েছে নানা ধরনের উপাসনালয়। আমাদের বাসভবনের কাছেই ছিল একটি ইবাদতকেন্দ্র বা উপাসনালয়। আমি প্রতিদিন সকালে সেখানে যেতাম ও প্রার্থনা করতাম। তিন মাস ধরে প্রতিদিন এই প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছিলাম। সত্যের সন্ধানেই এই প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। দোয়ায় মনোযোগ নিবিষ্ট বা কেন্দ্রীভুত করা ছিল বেশ কঠিন। তবে তা ছিল খুবই আনন্দদায়ক। কিন্তু কিছুদিন পরই অনুভব করলাম যে আমার ভেতরের জগত ও বাইরের বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। তাই আমি হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। অথচ আমি উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে জীবন যাপন করতে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমার প্রচেষ্টায় কোনো ফল হয়নি।' 


এর কিছুকাল পর নওমুসলিম মিসেস নাকাতা জীবনের গতিপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। পড়াশোনা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি ফ্রান্সে যান। আর এখানেই ঘটে তার জীবনে যুগান্তকারী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ প্রসঙ্গে নাকাতা বলেছেন:

'ফ্রান্সে পরিচিত হই এক মুসলমানের সঙ্গে। তিনি নিজের ধর্ম ইসলামকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন ও সমস্ত শক্তি আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ ধর্মের পক্ষে কথা বলতেন। তার ওই দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস দেখে আমার নিজের জন্য অনুশোচনা হত। কারণ, আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। আর এ জন্য অনেক গবেষণা ও পড়াশুনার পর যখন হতাশায় ডুবে ছিলাম তখন দেখলাম যে এই মুসলমান ইসলামকে ভালবাসতেন গভীরভাবে ও এর ছায়াতলে মানসিক প্রশান্তি অনুভব করছেন। তাই আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গবেষণার সিদ্ধান্ত নিলাম যাতে এ ধর্মের অনুসারীদের এত গভীর আত্মিক প্রশান্তির উৎস সম্পর্কে জানতে সক্ষম হই। সে সময় পর্যন্ত অনেক ধর্ম আমাকে আকৃষ্ট করলেও ইসলামের প্রতি একবারও আকৃষ্ট হইনি।'

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা ফরাসি ভাষায় অনূদিত পবিত্র কুরআনের একটি কপি সংগ্রহ করেন ও তা পড়তে থাকেন। এ মহাগ্রন্থ পড়ার সময় তিনি অনুভব করেন যে, এ আসমানি বই পড়ার জন্য কারো সাহায্য নেয়া জরুরি। ফলে হঠাৎ বিদ্যুতের মতই নাকাতার মাথায় এক ঝলকের মধ্যে ভেসে উঠল সেই মুসলিম মহিলার মুখখানি। ফলে তিনি মুসলমানদের ইবাদত-কেন্দ্র তথা মসজিদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।  নাকাতা এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

'অবশেষে একদিন মসজিদে গেলাম। মসজিদের পরিবেশ ছিল আমার জন্য এক অচেনা ও অপরিচিত জগত। কিন্তু বিস্ময়কর এক প্রশান্তি অনুভব করলাম। মসজিদটি ছিল এক বিশেষ আধ্যাত্মিক সুরভিতে ভরপুর। নীরবতা সেই পরিবেশকে করেছিল আরো প্রাণস্পর্শী ও মধুর। প্রাণজুড়ানো সেই আধ্যাত্মিক পরিবেশের আকর্ষণ আমাকে টেনে নিল মসজিদের ভেতরে। ধীরে ধীরে পা ফেলছিলাম। আমার কানে ভেসে আসছিল এক বিশেষ আহ্বান বা সুসংবাদ। তাতে বলা হল যে তুমি শিগগিরই সত্যকে খুঁজে পাবে।'

এ সময় মসজিদের বারান্দায় বই-পুস্তকের একটি ছোট্ট দোকান দেখলাম। কাছে গিয়ে বিক্রেতাকে বললাম:

'আমি এমন একজনকে খুঁজছি যে ইসলামকে আমার কাছে পরিচিত করবে। সে আমাকে মসজিদের লাইব্রেরিতে নিয়ে গেল। সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে একদল মুসলিম মহিলার জন্য ধর্ম বিষয়ক ক্লাস চলছিল এবং তা মাত্র কিছুক্ষণ আগে শেষ হল। সেই প্রথম আমি হিজাব পরিহিতা কোনো মুসলিম নারীকে দেখেছিলাম। তারা আমার প্রস্তাব শুনে খুব খুশি হয়ে আমাকে স্বাগত জানালেন। তারা ছিলেন সবাই সক্রিয়, প্রাণোচ্ছ্বল ও প্রফুল্ল। তাদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারিসে যে কয়েকটি বৈঠক হতো তাতে উপস্থিত হতাম। মুসলমানদের এইসব বৈঠকে আমার উপস্থিতি ধীরে ধীরে আমার মানসিকতাকে বদলে দেয় এবং বেশ কিছু বই পড়ার পর ইসলাম সম্পর্কে আমার ধারণা বদলে যায়। আমি বুঝতে পারলাম যে ইসলামে কোনো কিছুই জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় না। ইসলাম জীবন যাপনের যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পথ দেখায়। কোনো কোনো ধর্ম বা মতবাদ সব ধরনের বস্তুগত, জৈবিক বা পার্থিব চাহিদাকে উপেক্ষা করে কেবল পারলৌকিক বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ইসলাম আত্মা ও শরীরের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে বলে। অর্থাৎ ইসলাম আত্মিক ও শারীরিক উভয় চাহিদাকেই গুরুত্ব দেয়।’

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণার পর এ ধর্ম সম্পের্ক নানা বাস্তবতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন,  ‘ইসলাম অর্থ আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক মানুষের মূল্য নির্ভর করে তার ঈমান ও সৎ কর্ম সম্পাদনের ওপর। যখন খ্রিস্ট ধর্মের পেছনে ছুটতাম তখন এ ধর্মের পক্ষ থেকে বলা হত যে আমাদের পাপগুলো জন্মগত। অথচ এ কথা আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে মোটেই যৌক্তিক বা বোধগম্য নয়। কিন্তু ইসলাম বলে সব মানুষই জন্মগতভাবে পবিত্র ও নিরপরাধ; আর পরবর্তীকালে প্রত্যেক মানুষ নিজেই তার পাপের জন্য দায়ী। আর এ কথা খুবই যৌক্তিক। ইসলাম খুবই সহজ ও স্বচ্ছ ধর্ম। এ ধর্মে কোনো জটিল তত্ত্ব নেই।’

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা মুসলমানদের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বেশ আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছিলেন। যেসব মুসলিম মহিলা তাকে পথ প্রদর্শন বা গাইড করছিলেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন নাকাতা এবং মুসলমানদের প্রথা ও রীতিগুলো রপ্ত করে নেন তাদের কাছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

'আমি তাদের সঙ্গে মসজিদে যেতাম ও তাদের চাল-চলন বা গতিবিধি খুব আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করতাম। অনেক সময় তাদের সম্মান দেখানোর জন্য তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নামাজের অঙ্গভঙ্গিগুলো করে যেতাম যদিও নিজেও বুঝতাম না যে নামাজ আদায় করছি। মুসলমানদের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতেও অংশগ্রহণ করতে থাকি। যেসব বক্তব্য শুনতাম সেসবকে আমার হৃদয় যেন শুকনো মাটি বা বালির দ্রুত পানি শুষে নেয়ার মতই গ্রহণ করত। এসব বক্তব্য আমাকে দিত আধ্যাত্মিক আনন্দ। ধীরে ধীরে অনুভব করলাম যে বহু বছর ধরে আমি যে সত্যের সন্ধান করছি তা পেয়েছি। অবশ্য এ জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। যতই ইসলাম সম্পর্কে বেশি তথ্য জানছিলাম ততই এ ধর্মকে গ্রহণের ইচ্ছাও আমার মধ্যে জোরদার হচ্ছিল। অবশেষে এই সাক্ষ্য দিলাম যে, আল্লাহ এক এবং মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর রাসূল। '

নামাজ মিসেস নাকাতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার মতে নামাজ মানুষের বিশ্বাস বা ঈমানকে সুদৃঢ় করে। মুসলমান হওয়ার পর প্রথম নামাজ আদায়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নাকাতা বলেছেন:

'যখন প্রথমবার সিজদার উদ্দেশ্যে কপাল মাটিতে রাখলাম এক ও দয়ালু আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তখন আমার মধ্যে দেখা দিয়েছিল অসাধারণ অনুভূতি এবং নিজের মাথা জমিন থেকে ওঠাতে পারছিলাম না। যখনই সিজদায় যেতাম তখনই আল্লাহর অস্তিত্বকে ও ঈমান বা বিশ্বাসের অর্থকে বেশি মাত্রায় অনুভব করতাম। আর এটা ছিল এক সুন্দর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা যা আমি অন্য ধর্মগুলোর মধ্যে পাইনি।'

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা কিছুকাল পর মিশরে যান আরবী ভাষা ও ইসলামী শিক্ষা আরো ভালোভাবে রপ্ত করার জন্য। আরবী ভাষা ভালোভাবে বোঝার পর নাকাতা কুরআনের বাণীর অর্থগুলো আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে থাকেন: তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আরবী ভাষা মোটামুটি বোঝার পর কুরআনের সৌন্দর্য আমাকে বিমুগ্ধ করছে। কুরআনের বিষয়বস্তুগুলো ছাড়াও এর সুরও অশেষ সৌন্দর্যে ভরপুর। কুরআন বার বার পড়লেও ক্লান্ত হওয়া তো দূরের কথা বরং আমার অন্তর যেন সৌভাগ্যের সাগরে অবগাহন করতে থাকে। মহান আল্লাহ আমাকে এই সৌভাগ্য নসিব করেছেন বলে আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আমি ইসলামকে আমার দেশের জনগণের কাছে তুলে ধরছি। যে সৌভাগ্য কেবল এক আল্লাহকে চেনা ও জানার মাধ্যমে পাওয়া যায় সে সৌভাগ্য তারাও অর্জন করুক- এই আমার প্রার্থনা। আমি সুনিশ্চিত যে আল্লাহর ওপর ভরসার সুবাদে সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে।' #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭

## হিন্দু ভাইদের আলোর পথে আহবান

মাগরিবের নামাজ শেষে বাসায় আসার পরে ফোন আসলো । ওপাশ থেকে জনৈক- আপনি তো মাঠে ময়দানে অমুসলিমদের ইসলামের দাওয়াত দেন । বললাম জ্বী ভাইজান সত্য প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়। সত্য প্রকাশ করাকে আমি আমার কাজ বানিয়ে নিয়েছি। 

ভাইটি বললো, ইউটিউবে দেখলাম, আপনি বিভিন্ন সময় দাওয়াত দেন। আজ আমি আপনাকে সনাতন ধর্ম গ্রহন করার দাওয়াত দিচ্ছি আপনি হিন্দু ধর্ম গ্রহন করুন। 

বললাম , আমিও তো চাই হিন্দু ধর্ম গ্রহন করতে। কীভাবে কীভাবে হিন্দু ধর্ম গ্রহন করা যায় আমাকে সিস্টেমটা বলবেন কি ভাই? 

ভাইটি বললেন , কীভাবে মানে ?
আমি বললাম , ধরেন একটি ঘরে যেতে হলে প্রথমে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। তেমনি ইসলামে প্রবেশ করতে হলে কালিমা নামক দরজা দিয়ে ঢুকতে হয়। 

এখন বলুন হিন্দু ধর্মে এরকম কোন পদ্ধতি আছে কিনা , যার মধ্যমে আমি হিন্দু ধর্ম গ্রহন করতে পারবো ?

ভাইটি অনেক ভেবে চিন্তে বললেন, না ভাই এরকম তো কোন সিস্টেম আমার জানা নাই!

আমি বললাম, তাহলে কীভাবে আমি আপনার দাওয়াত কবুল করে হিন্দু ধর্ম গ্রহন করবো? 

তাছাড়া, যে ধর্ম আমাকে মুক্তি দিতে পারবেনা সে ধর্ম আমি কেনই বা গ্রহন করবো ? 

ভাইজান কি জানেন আপনার প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থের নাম বেদ ?

-জ্বী ভাই কেন জানব না ?

আপনি কি বেদ মানেন ?
-জ্বী বেদ তো মানতেই হবে । 

আচ্ছা তাহলে তো ভালই হলো বেদে তো মুহম্মদ (সাঃ) এবং তার শেখানো পথ ইসলামকে মানতে বলা হয়েছে। আপনি তো ইসলাম মানেন না। তাহলে এবার বলুন কীভাবে আপনি বেদ মানলেন ?

-কি বলেন এসব আজগুবী কথা বার্তা ? বেদে আবার কোথায় এরকম বলা আছে ? 

জ্বী ভাইজান বেদেই এরকম বলা আছে। আপনি যেহেতু বেদ পড়েন নাই তাই জানেন না । চলেন আপনাকে আপনার বেদের সত্য কথাগুলো শোনাই । যা আপনার পণ্ডিতগণ আপনাদের কাছ থেকে গোপন করে রেখেছে ।

*হিন্দুধর্মে যুগ চারটি 
-সত্য
-ত্রেতা
-দাপর
-কলি।

কলিযুগের শেষ অবতার যাকে আমাদের পরিভাষায় শেষ নবী বলি, সেই কল্কি অবতারের নাম, পিতার নাম, জন্মস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আপনাদের ধর্মীয় গ্রন্থে পাওয়া যায়। আপনারা যার অপেক্ষা করছেন, এগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সকল মানুষের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ই প্রমাণিত হয়। নিম্নে তার বর্ণনা দেয়া হলো-

★অন্তিম অবতারের নামঃ 
অন্তিম অবতার বা শেষ রাসূলের নাম হবে ‘নরাশংস’।
“নরাশংসং সৃধৃষ্টমমপশ্যং সপ্রথস্তমং দিবো ন সদ্মমখসম ॥ 
-ঋগ্বেদ ১/১৮/৯

আমরা একটু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ‘নরাশংস’ সংস্কৃত ভাষা। যার বাংলা অর্থ হয় ‘প্রশংসিত ব্যক্তি’। যার আরবী অর্থ হয় ‘মুহাম্মদ’। আর সকল মানুষের সর্বশেষ নবীর নাম হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

অন্তিম অবতারের পিতার নামঃ 
অন্তিম অবতারের পিতার নাম হবে ‘বিষ্ণু যশা’।
‘‘সুমত্যাং বিষ্ণুযশসা গর্ভমাধত্ত বৈষ্ণবম্।’’
-কল্কি-পুরান-১/২/১১

এর বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ‘বিষ্ণু যশা’ শব্দটি সংস্কৃত শব্দ। যার বাংলা অর্থ হয়, ‘মালিকের দাস’। যার আরবী অনুবাদ হয় ‘আবদুল্লাহ’।
আর সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের পিতার নাম ছিল আবদুল্লাহ।

অন্তিম অবতারের মাতার নামঃ
অন্তিম অবতারের মাতার নাম সম্পর্কে কল্কি পুরানে লেখা আছে যে, তার নাম হবে ‘সুমতি’।
‘‘সুমত্যাং মাতরি বিভো। কন্যায়াংত্বন্নিদেশত:।।”
-কল্কিপুরাণ-১/২/৪

এর বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ‘সুমতি’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা। 
যার বাংলা অর্থ হয়, ‘নিরাপদ-শান্তি’।
যার আরবী অনুবাদ হয় ‘আমিনা’। আর সর্ব শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাতার নাম ছিল আমিনা।

অন্তিম অবতারের জন্মস্থানঃ 
অন্তিম অবতারের জন্মস্থান সম্পর্কে কল্কি পুরানে লেখা আছে, তিনি জন্ম গ্রহণ করবেন , ‘শম্ভল’ নামক স্থানে। 
‘‘শম্ভলে বিষ্ণুযশসো গৃহে প্রদুর্ভবাম্যহম।’’
-কল্কিপুরাণ-১/২/৪

এর বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ‘শম্ভল’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা। যার বাংলা অর্থ হয়, ‘শান্তির স্থান’। যার আরবী অনুবাদ হয় ‘বালাদুল আমিন’। আর মক্কা মুকাররমার নাম হলো, বালাদুল  আমিন। আর মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় জন্মগ্রহণ করেছেন।

অন্তিম অবতারের জন্ম তারিখঃ 
অন্তিম অবতার ‘মাধব মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বাদশ তারিখে জন্মগ্রহণ করবেন।’
‘‘দ্বাদশ্যাং শুক্লপক্ষস্য মাধবে মাসি মাধবঃ।”
-কল্কিপুরাণ-১/২/১৫

মাধব অর্থ বৈশাখ মাস, বিক্রমী ক্যালেন্ডার মতে বৈশাখকে বসন্তের মাস বলা হয়, যার আরবী অর্থ হয় ‘রবি’। শুক্ল পক্ষ, অর্থাৎ ‘প্রথম অংশ’ যার আরবী অনুবাদ হয়, ‘আওয়াল’। একত্রে হয় ‘রবিউল আওয়াল’ দ্বাদশ তারিখ অর্থাৎ ১২ তারিখ।

আর সর্বশেষ সকল মানুষের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন।

এবার আপনি ভেবে দেখুন , অনুরোধ রইলো। ২১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড কথা হলো । ভাইয়ের দিল বোধ হয় কিছুটা নরম হলো।। ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দিলেন, কিন্তু পরিচয় জানা হলো না। আমি আবারও আপনার ফোন কলের অপেক্ষায়। শুধু শুনতে চাই, ভাই আমি এক আল্লাহর কালিমার দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাই।

অজানা অচেনা আমার এই অমুসলিম ভাইয়ের জন্য হেদায়েতের দোয়া রইলো । রব্বে কারীম কবুল করেন । 
আমিন ।

দাঈ- আমিনুল ইসলাম


কাতারে আলনূর বাংলা ভাষা সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত >>   ওয়াহিদ ম্যানশন দিয়েই শুরু হলো রাসায়নিক গুদাম উচ্ছেদ অভিযান >>   কর্ণফুলি টানেলের নির্মাণকাজের উদ্বোধন কাল >>   কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতা ইয়াসিন মালিক গ্রেফতার >>   চকরিয়ায় ইসলাহি জোড় ও দোয়া মাহফিল কাল >>   হবিগঞ্জে খোয়াই নদীতে গর্ত খুঁড়তে গিয়ে নিহত ১, আহত ৫ >>   ১৬ বছর পর আল আকসায় জুম্মার নামাজ আদায় >>  

কেনিয়ার পুরোহিতের ইসলাম গ্রহণ




আবদুল্লাহ তামিম: কেনিয়ার পশ্চিম প্রদেশের পুরোহিত চার্লস ওকাওয়ানি ‘ওহিয়ে এলাহি’ গির্জার স্থানে নবনির্মিত মসজিদ উদ্বোধনীর সময়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কারণ বলেছেন।

পূর্ব আফ্রিকার ‘গড’স কল’ নামক চার্চের সাবেক পুরোহিত চার্লস ওকাওয়ানি ইসলামিক নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার জন্য নিজের নাম পরিবর্তন করে ইসমাইল ওকাওয়ানি রেখেছেন।

তিনি কেনিয়ার কিসি শহরের মুসলিম আলেম মুস্তাফা সাউকার নিকটের নিজের হৃদয়ের বিশ্বাস ও অন্তরঙ্গ অনুভূতি ব্যক্ত করে শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন।

কেনিয়ার ইরানী কালচারাল অ্যাটাশে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন যাবত ‘ওহিয়ে এলাহি’ নামক গির্জায় খ্রিষ্টানরা তাদের ইবাদত করতেন। তবে এখন ৬৫ জন খ্রিষ্টান ইসলাম গ্রহন করেছেন।

কেনিয়ার মুসলিম উম্মাহ কমিটির চেয়ারম্যান, কেনিয়ার কেইসুমু শহরের ‘কল ডেভেলপমেন্ট’ গ্রুপের প্রতিনিধি এবং তুরস্কের খাইরাত আল-বারাকার ফাউন্ডেশনের (কেনিয়ার) প্রতিনিধি শাইখ খালফান খামিসের আমন্ত্রণে পূর্বের গির্জার স্থানে নবনির্মিত মসজিদটি উদ্বোধন করেছেন।

এই মসজিদটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নওমুসলিম ইসমাইল ওকাওয়ানি বলেন, বিশপ হিসাবে আমার মেয়াদকালে, আমি ঈশ্বরের বাণী প্রচারের জন্য কেনিয়ার মালিঙ্গি, মুম্বাস ও নাইরোবি শহর এবং তানজানিয়া ভ্রমণ করেছি।

আমি এসব এলাকায় বসবাসরত খ্রিস্টান ও মুসলমানদের আচরণ সম্পর্কে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছিলাম এবং এটি আমাকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত করেছিল যে ইসলামই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট ধর্ম। আমি সে জন্য ইসলাম ধর্মের পতাকাতলে আশ্রয় নিয়েছি। আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অধিক তথ্য ও গবেষণা করতে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যদি সফর করতে হয়, আমি সে স্থানে সফর করে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবো।
                          কালেক্ট: 23/02/2019


#গির্জার সাবেক যাজকসহ ৬৫ খ্রিস্টানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ!

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ- পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার ‘গডস কল’ নামক গির্জার সাবেক যাজক ‘চার্লস ওকাওয়ানি’। সম্প্রতি তিনি ‘ওহিয়ে ইলাহি’ নামক গির্জায় প্রার্থনারত ৬৫ জন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীসহ নিজে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

‘ওহিয়ে ইলাহি’ নামক গির্জার স্থানে বর্তমানে নির্মাণ করেছেন একটি মসজিদ। জানা যায় ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ওই স্থানে এক সঙ্গে প্রার্থনা করতেন তারা। আর তাই ইসলাম গ্রহণের পরও যেন একই স্থানে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন তাই নির্মাণ করেছেন মসজিদ।

জানা গেছে, ‘গড’স কল’ নামক চার্চের সাবেক পাদ্রি চার্লস ওকাওয়ানি নিজের নাম পরিবর্তন করে ইসমাইল ওকাওয়ানি রেখেছেন।

তিনি কেনিয়ার কিসি শহরের মুসলিম আলেম ও পণ্ডিত মুস্তাফা সাউকেইকের কাছে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেন।

কেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি কালচারাল সেন্টারের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ‘ওহিয়ে এলাহি’ নামক গির্জায় খ্রিস্টানরা তাদের ইবাদত করতেন। কিন্তু বর্তমানে সব খ্রিস্টান পুণ্যার্থী (৬৩ জন) ইসলামধর্ম গ্রহণ করায় গির্জাটি মসজিদে পরিবর্তন করা হয়েছে।

কেনিয়ার মুসলিম উম্মাহ কমিটির চেয়ারম্যান, কেইসুমু শহরের ‘কল ডেভেলপমেন্ট’ গ্রুপের প্রতিনিধি এবং তুরস্কের খাইরাত আল-বারাকার ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি শায়খ খালফান খামিসের উপস্থিতে গির্জার স্থানে নবনির্মিত মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইসমাইল ওকাওয়ানি বলেন, ‘বিশপ হিসাবে আমার মেয়াদকালে খ্রিস্টধর্মের বাণী প্রচারের জন্য কেনিয়ার মালিন্ডি, মুম্বাসা ও নাইরোবি এবং পার্শ্ববর্তী দেশ তানজানিয়ায় ভ্রমণ করেছি।

তাই এসব এলাকায় বসবাসরত খ্রিস্টান ও মুসলমানদের সম্পর্কে অধ্যয়নের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলাম। এটি আমাকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত করেছিল যে, ইসলামই সর্বোৎকৃষ্ট ধর্ম। আর এ কারণে আমি ইসলামধর্মের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমার আগের চার্চটি আগে নায়ালগোসি গড’স কল চার্চ নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন থেকে সেটি নায়ালগোসি জামে মসজি।

এছাড়াও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইসলামধর্ম সম্পর্কে অধিক তথ্য জানতে এবং গবেষণা করতে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যেতে আমি রাজি। প্রয়োজনে দীর্ঘ সফর করে আমি ইসলামধর্মের জ্ঞান অর্জন করবো।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, সাবেক পাদ্রি চার্লস ওকাওয়ানি ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তার সঙ্গে গির্জার ২৩ সদস্যও ইসলাম গ্রহণ করেন।

সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সির সূত্র মতে, খ্রিস্টান প্রধান দেশ কেনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম। মোট জনগণের ১১.২% শতাংশ মুসলিম। 

@দৈনিক ইনকিলাব, 25/02/2019 এফ বি 


ধর্মের ওপর গবেষণা করার পর ইসলাম গ্রহণ করলেন তিন মার্কিন অধ্যাপক


ইসলাম ডেস্ক: আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব নাইজেরিয়ার (এইউএন) তিন মার্কিন অধ্যাপক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তারা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকান মেরিন অফিসার এবং এইউএন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রধান লিয়নেল রলিনস, এইউএন ইউনিভার্সিটির প্রিন্টিং প্রেসের ডিরেক্টর এবং পরভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার গ্যাব্রিয়েল ফস্টার এবং ট্রিসন পরভিস।

নাইজেরিয়ার আদামাওয়ার প্রদেশের রাজধানী ইয়োলাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। ইসলাম গ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ইমাম উস্তাজ দাউদা বেলো তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন নতুন এই তিন মুসলিমকে স্বাগত জানান এবং একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

ইসলাম গ্রহণকারী ওই তিনজন বলেন, ধর্মের ওপর ভালভাবে গবেষণা করার পর ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইসলামই জীবনের সেরা পথ বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সূত্র:  এম টি নিউজ ৷ 25/02/2019


ইসরাইলী নারীর ইসলাম গ্রহণ
ইসরায়েলের ইলাত শহরের এক পরিবারের ইসলাম গ্রহণ



আব্দুল্লাহ আফফান: ইসরায়েলের এক নারীসহ তার পরিবারের সবাই ইহুদি ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তবে তার পরিবারের মোট কতজন রয়েছে তা জানা যায়নি।

ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা এ নারী তার পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। আগে ওই নারী ইলাত শহরে বসবাস করলেও মুসলিম হওয়ার পর স্বপরিবারে পশ্চিম তীরের খলিল পর্বতের পাদদেশে হিজরত করেন।

ইসলাম গ্রহণের পর ইলাতে থাকাকালীন সময়ে পরিবারের দুটি শিশুবাচ্চাকে অপহরণ করে ইসরায়েলের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদেরকে ভিটেমাটি ছাড়ার হুমকি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে জীবন বাঁচানোর তাকিদে পশ্চিম তীরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তারা।


##ইসলাম ধ্বংস করতে এসে নিজেই মুসলিম হয়ে গেলাম!

শরিফা কার্লোসের মুসলিম হওয়ার বিস্ময়কর গল্প। ইসলাম ধ্বংস করতে এসে নিজেই মুসলিম হয়ে গেলাম। যখন তিনি দাওয়াত দিলেন, তা আমার মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। আমি জানতাম আমি সত্যের মুখোমুখি হয়েছি, তাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গল্পটি হলো কিভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনার মাঝে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। আমি নিজে ও যে দলের সাথে কাজ করতাম আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম।

আর আল্লাহও পরিকল্পনা করলেন। আল্লাহই হলেন সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।যখন আমি তরুণী ছিলাম, আমি একটি দলের নজরে পড়ে যাই, যারা মূলত একটি অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করত। তারা ছিলো, সম্ভবত এখনো আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে যারা মূলত সরকারের বিভিন্ন দফতরে কাজ করেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো ইসলামের সর্বনাশ করা।যতদূর জানি এটি কোন সরকারি দল নয় কিন্তু তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দফতরগুলোকে ব্যবহার করে থাকে।

তাদের একজন সদস্য আমাকে পছন্দ করেছিলেন, কারণ তিনি দেখেছিলেন আমি নারীবাদী আন্দোলনের ব্যাপারে অগ্রগামী।তিনি আমাকে বললেন, যদি আমি আরব বিশ্বকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়ন করি তবে সুনিশ্চিত ভাবেই আমাকে মিশরের আমেরিকান দূতাবাসে চাকরি পেয়ে যাবো। তিনি চাচ্ছিলেন আমি যেন সেখানে আমার দেশের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সেখানকার নারীদের মাঝে নারীবাদী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেই।আমার কাছে তা অত্যন্ত ভালো কিছুই মনে হয়েছে।টিভিতে আমি মুসলিম মহিলাদের দেখতাম।

আমি জানতাম তারা ছিলো অত্যন্ত নির্যাতিত সম্প্রদায়, তাই আমিও চাচ্ছিলাম তাদের বিংশ শতকের আলোর দিকে নিয়ে আসতে। এই উদ্দেশ্যে নিয়ে আমি কলেজে ভর্তি হলাম ও লেখাপড়া আরম্ভ করলাম। আমি কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অধ্যয়ন করেছি। আমার অধ্যয়ন ছিল মূলত কীভাবে তা নিজের কাজে লাগাবো সে কেন্দ্রিক।

আমি শিখেছিলাম নিজের উদ্দেশ্য হাসিলে কিভাবে বিষয়গুলোকে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করতে হবে। এটিই ছিল সর্বাপেক্ষা মূল্যবান অস্র। যখন আমি শিখতে শুরু করে ক্রমাগত বিভ্রান্ত হতে থাকলাম।

এর মর্মার্থও ছিলো অত্যন্ত ভয়াবহ। এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য আমি খ্রিষ্টবাদের উপর ক্লাস করতে শুরু করলাম। হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্মতত্ত্বের উপর পি,এইস,ডি. ধারী স্বনামধন্য প্রফেসারের সাথেই ক্লাস নিতে পছন্দ করতাম। আমার কাছে মনে হয়েছিলো আমি অত্যন্ত ভালো কারো তত্ত্বাবধানে আছি। আমি জানতে পারলাম তিনি একেশ্বরবাদী খ্রিষ্টান। তিনি ত্রিতত্ত্ববাদ কিংবা যিশুর দেবত্বে বিশ্বাস করতেন না।

বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, যিশু একজন নবী ছিলেন।গ্রিক, হিব্রু ও আর্মারিক বাইবেল দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন কিভাবে বাইবেল পরিবর্তিত হয়েছে। সেই সাথে তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলোও তিনি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে এইক্লাসগুলো শেষ হয়ে গেল, আমার ধর্মও তার আবেদন হারিয়ে ফেলেছিলো কিন্তু আমি ইসলাম গ্রহণে তখনো প্রস্তুত ছিলাম না। এ সময় আমি বিভিন্ন মুসলিমকে তাদের বিশ্বাস সমন্ধে প্রশ্ন করতে আরম্ভ করি। MSA [Muslim Student Association] এর এক ভাইকে এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন করেছিলাম।ইসলামের প্রতি আমার আগ্রহ দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে শিক্ষা দেওয়ার ব্যাবস্থা করলেন।

একদিন এই মানুষটি আমার কাছে এসে বললেন, একটি মুসলিমদল আমাদের শহরে এসেছেন। তিনি চান আমি যেন তাদের সাথে দেখা করি। আমি রাজি হলাম। এশার নামাজের পর আমি সেখানে গেলাম। আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন যেখানে প্রায় জনা বিশেক লোক বসে ছিলেন। সবাই আমাকে দেখে বসার জন্য যায়গা ছেড়ে দিলেন।একজন বয়োবৃদ্ধ পাকিস্তানির মুখোমুখি আমাকে বসানো হলো। মাশা’আল্লাহ, খ্রিস্টবাদ সম্বন্ধে ভাইটি অত্যন্ত জ্ঞান রাখেন। আমরা দুজন ফজর পর্যন্ত কোরআন ও বাইবেল নিয়ে নানান বিষয়ে আলোচনা ও যুক্তিতর্ক চালিয়ে যাই।

ওনার বক্তব্য শোনার পর আমি যা খ্রিষ্টবাদ সমন্ধে ক্লাসে জেনেছিলাম তাই যেন নতুন করে জানলাম, তিনি এমন এক কাজ করে বসলেন যা উনার পূর্বে আর কেও করেননি। তিনি আমাকে মুসলিম হতে আহবান জানালেন।গত তিনটি বছর আমি ইসলাম সমন্ধে জানতে চেয়েছি, গবেষণা করেছি কিন্তু কেও আমাকে দাওয়াত দেয়নি। আমি শিখেছি, যুক্তিতর্ক করেছি এমনকি অপমানিতও হয়েছি কিন্তু কখনো দাওয়াত পাইনি।তাই, যখন তিনি দাওয়াত দিলেন, তা আমার মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। আমি তা বুঝতে পারেছিলাম।

আমি জানতাম আমি সত্যের মুখোমুখি হয়েছি, তাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), আল্লাহ আমার অন্তর খুলে দিলেন, আর আমিও বললাম, “আমি মুসলিম হতে চাই।”অতঃপর তিনি আমাকে আরবি ও ইংরেজিতে শাহাদাৎ পাঠ করালেন। মনে হচ্ছিলো বুকের উপর চেপে থাকা বিরাটকায় পাথরটা নেমে গেল। মনে হচ্ছিল জীবনের প্রথমবারের মত নিশ্বাস নিচ্ছি যার জন্য এতদিন আমিহাসফাস করছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ জান্নাতের পথে আমাকে পরিচ্ছন্ন এক নতুন জীবন দান করেছেন, দোয়া করি আল্লাহ যেন বাকি জীবন এমনকি মুসলিম হিসেবেই মৃত্যু দান করেন।


ধর্মান্তরিত মেয়ের আচরণে মুগ্ধ হয়ে পরিবারের ছয়জন মুসলমান হলেন

ধর্মান্তরিত মেয়ের আচরনে মুগ্ধ হয়ে সিলেটের ওসমানীনগরে একই পরিবারের ৬ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ওই পরিবারের ২ মেয়ে জোসনা ও মরিয়ন ২০০৪ সালের ২৫ জানুয়ারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও পিতৃ পরিবারের সাথে তাদের সর্ম্পকছেদের পরিবর্তে আরো দায়িত্বশীল হয়ে উঠে। বিষয়টিতে তৃপ্ত হন ধর্মান্তরিত মেয়েদের বাবা রাধীকা রায়। এভাবে দিন-মাস-বছর গড়িয়ে যায়। তারর্পও ধর্মান্তরিত মেয়েরা স্বামীর পরিবারে থাকলেও পিতা মাতার প্রতি তাদের সর্ম্পক গভীর করে তোলে। এতে করে ইসলাম ধর্মের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় রাধীকা রায়, তার স্ত্রী ও অন্যান্য সন্তানদের। এক পর্যায়ে স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন তারা। এরই প্রেক্ষিতে গত সোমবার আইনী মাধ্যমে তারা ইসলাম ধর্মের প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করে, কালেমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। ধর্মগ্রহণকারীরা হচ্ছেন, ওসমানীনগরের সাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের মৃত রাধা রসন রায়ের পুত্র রাধীকা রায় (৯০) (বর্তমান নাম আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ), রাধীকা রায়ের স্ত্রী সিন্দু রানী রায় (৭৫) (বর্তমান নাম খাদিজাতুল কুবরা), রাধীকা রায়ের পুত্র নিথিশ রায় (৩৪) (বর্তমান নাম আব্দুল্লাহ ওমর), নিথিশ রায়ের স্ত্রী ঝুমা রাণী রায় (৩৩) (বর্তমান নাম উম্মে কুলসুম), নিথিশ রায়ের দুই পুত্র সজীব রায় (১০) (বর্তমান নাম আব্দুল্লাহ জায়েদ) ও সূর্য রায় (৪) (বর্তমান নাম আব্দুল্লাহ হোবাইদ

সূত্র,  ইনকিলাব 01/04/2019


জার্মানির কট্টর ইসলামবিদ্বেষী দলের নেতার ইসলাম গ্রহণ!


আলহামদুলিল্লাহ!


সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিতে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি-এএফডি’র উত্থান ঘটে। মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশ থেকে জার্মানিতে আশ্রয় নেয়া মুসলিম শরণার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে দলটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গত নির্বাচনে তাদের স্লোগান ছিলো- ‘জার্মানির সাথে ইসলামের কোনো সংযোগ নেই।’


সেই এএফডি’র সিনিয়র নেতা আর্থার ওয়াগনার ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ধর্ম পরিবর্তন করেই তিনি তার রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। জার্মানির ব্রান্ডেনবার্গ প্রদেশ এএফডির নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।


ওয়েঙ্গারের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে এএফডির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, আর্থার ব্যক্তিগত কারণে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২০১৫ সালে এএফডিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।


পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ওয়েঙ্গারের ইসলামগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোও সরব। যদিও ধর্মান্তর নিয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ওয়েঙ্গার। তিনি বলেছেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’


প্রাদেশিক এএফডি সভাপতি আন্দ্রেস কালবিটজ সিএনএন’কে বলেন, ‘আমি খুবই অবাক হয়েছি। দলের খ্রিষ্টান শাখায় তিনি দীর্ঘদিন অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।’ তিনি আরও জানান, দল থেকে পদত্যাগে ওয়েঙ্গারের ওপর কোনো চাপ ছিল না।


শরণার্থী এবং অভিবাসন বিরোধী দল এএফডি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ১২.৬ ভাগ ভোট নিয়ে প্রথমবারের মত জার্মান সংসদে (বুন্দেসটার্গ) প্রবেশ করে রেকর্ড গড়ে। হয়ে উঠে সংসদের তৃতীয় বৃহত্তম দল। এক মাস আগেই দলটির ডেপুটি লিডার বেট্রিক্স ভন স্ট্রচ ইসলামবিরোধী মন্তব্য করার কারণে ফেসবুক ও টুইটারের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়া এই দলটি জার্মানিতে মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছিল।

সূত্র: আহলে হক মিডিয়া


##ওয়াজ মাহফিলে কুরআন-হাদিসের আলোচনা শুনে ইসলাম গ্রহণ করল পুরো একটি পরিবার

বিভিন্ন সময় ওয়াজ ও মাহফিলে আল্লাহ ও তার মহানবী হজরত মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী শুনে শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পটুয়াখালীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের তিন সদস্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। রোববার দুপুরে পটুয়াখালীর ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিনের আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করেন তারা।

তারা হলেন- সদর উপজেলার টাউন বহাল গাছিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফুয়াদ হাসান (২৭), পূর্বে তার নাম ছিল শ্যামল চন্দ্র শীল। তার স্ত্রী জান্নাত আরা, পূর্বে তার নাম ছিল রীতা রানী। তাদের শিশুসন্তান মোহাম্মদ গণি (২)। পূর্বে তার নাম ছিল প্রিতম চন্দ্র শীল।

স্থানীয় ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টাউন বহাল গাছিয়া এলাকার বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র ও তার স্ত্রী রীতা রানী তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে স্থানীয় মসজিদে যান। স্থানীয় গাজী বাড়ি বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মনোয়ার হোসাইনের মাধ্যমে কালেমা পাঠ করে মুসলিম হন তারা।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হওয়া মো. ফুয়াদ হাসান বলেন, বিভিন্ন সময় ওয়াজ ও মাহফিলে আল্লাহ ও তার মহানবী হজরত মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা শুনে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হই। পরে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আগ্রহী হই আমরা। এতদিন ভুলপথে ছিলাম। এখন আল্লাহর পথে এসেছি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। তাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই।

##ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী লিসা শানকিন

নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে মুসলিম ও ইসলামভীতি অনুভূতি প্রকাশ আসছেন। তাদের ইসলামভীতির কারণে দেশটিতে মুসলিমরা বিশেষ করে মুসলিম নারীরা নানা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।

তারপরেও দেশটিতে থেমে নেই ইসলামের জয়যাত্রা। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণাত্মক ভাষা ব্যবহার বরং দেশটির অমুসলিমদের ইসলাম ও কোরআন নিয়ে গবেষণা করতে উৎসাহিত করছে এবং পরে তারা ইসলামকেই আঁকড়ে ধরছে। তেমনই একজন লিসা শানকিন। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণাত্মক বক্তৃতা এই আমেরিকান নারীকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করতে সহায়তা করেছে।

তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে সম্প্রতি তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। লিসা শানকিন একজন সাবেক সাইকোথেরাপিস্ট। তিনি মনোবিজ্ঞানের ওপর শার্লট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন।

তিনি তার ফেসবুকে পেজে লিখেছেন, ট্রাম্পের ঘৃণ্য বাগাড়ম্বরপূর্ণ উক্তি আমাকে একটি বছর আগে কোরআন নিয়ে অধ্যয়ন করতে পরিচালিত করেছে (বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ধর্মের অধ্যয়নের সময় যা আমার পড়া হয়নি) এবং ঘনিষ্ঠভাবে এটি অধ্যয়ন করছি। শানকিন ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে হিজাব পরা শুরু করেন। এ দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

তিনি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি যে দিন ট্রাম্প শপথ নিবেন; সেই দিন থেকে আমার প্রকাশ্যে হিজাব পরা শুরু হবে। বিশ্বে আমেরিকাতেই সবচেয়ে বেশি ইসলামে ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটছে। ৯/১১ পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ালেও সেখানে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে।

সূত্র:আমাদের সময় .কম 22 এপ্রিল


##সম্রাট শাহজাহানের সুবিচারে মুগ্ধ হয়ে চারশ’ হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করে

বলা হয়ে থাকে, ভারতবর্ষে মুসলিম সুলতানগণ ইসলাম প্রচারের জন্য নিয়মিত বা নির্দিষ্ট কোনো উপায় অবলম্বন করেননি। বিশেষত মোগলদের শাসনামলে তারা যদি সুপরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন তাহলে ইসলাম প্রচারের ধারা অধিক গতিশীল হতো। তারা ইসলাম প্রচারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিভাগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করেননি।
তা সত্তে¡ও কয়েকজন দ্বীনদার ইসলামপ্রিয় মোগল সম্রাট বিক্ষিপ্তভাবে ইসলাম প্রচার করেন। তাদের মধ্যে সম্রাট শাহজাহানের নাম উল্লেখযোগ্য। তার একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, যা ছিল অসাধারণ। বহু মুসলিম মহিলার প্রতি হিন্দু নির্যাতনের অদ্ভুত ঘটনা শ্রবণ করে সম্রাট শাহজাহানের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার সুবিচারে একই সঙ্গে চারশ’ হিন্দুর ইসলাম গ্রহণের বিরল দৃষ্টান্ত দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
মাওলানা জুকাউল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ছিল এইরূপ : সম্রাট শাহজাহান তার অভিষেক অনুষ্ঠানের সপ্তমবর্ষে হিজরি ১০৪৩/১৬৩৪ সালে কাশ্মীর ভ্রমণে গমন করেন। প্রত্যাবর্তন কালে যখন গুজরাটে পৌঁছেন, তখন স্থানীয় মুসলমানগণ তাঁর সমীপে এসে নালিশ করে যে, ‘এখানে অন্ধকার বিরাজ করছে, বহু হিন্দু সাহুকার (মহাজন) মুসলমান নারীদের জোরপূর্বক তাদের গৃহে নিয়ে রেখেছে। শহরের অধিকাংশ মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছে এবং কোরআন কারিমের অবমাননা করেছে। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের প্রতি ইনসাফ করুন।’
সম্রাট অভিযোগ তদন্ত করার জন্য শেখ মাহমুদ গুজরাটীকে নিযুক্ত করেন। তদন্তের পর তিনটি অভিযোগই সঠিক পাওয়া যায়। তখন সম্রাট নির্র্দেশ দিলেন যে, ‘যেসব মুসলমান মহিলা হিন্দুদের কব্জায় আছে, যদি হিন্দুরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাহলে ঐসব নারী তাদেরই থাকবে এবং তাদেরকে দ্বিতীয়বার নিকাহ পড়িয়ে দেয়া হবে।’
আর ঐসব হিন্দু যদি ইসলাম গ্রহণ না করে, তাহলে ঐসব মুসলমান নারীকে ঐ হিন্দুদের কবল হতে মুক্ত করে মুসলমানদের সাথে তাদের নিকাহ পড়িয়ে দিতে হবে। যেসব মসজিদ হিন্দুরা ধ্বংস করেছে সেগুলো তাদের খরচেই পুনঃনির্মাণ করে দিতে হবে। কিন্তু যেসব হিন্দু কোরআন কারিমের অবমাননা করেছে তাদেরকে হত্যা করা হবে।’
এ নির্দেশ শুনে যেসব হিন্দুর ঘরে মুসলমান নারীরা ছিল, তারা এসব নারীকে ত্যাগ করতে পারে না, কারণ তাদের সন্তানাদি রয়েছে আবার তাদেরকে ঘরে রাখাও সম্ভব নয়। ওই নারীদের হিন্দু হওয়াও তাদের পক্ষে অসম্ভব। সুতরাং একান্ত বাধ্য হয়েই তারা সঠিক পথ অনুসরণ করে এবং দ্রুত ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। কেননা কেবল এভাবেই এসব নারী তাদের গৃহে অবস্থান করতে পারে। ওদের সংখ্যা গণনার পর জানা গেল, চারশ’ হিন্দু এভাবে তাদের স্ত্রীদের খাতিরে মুসলমান হয়ে যায়।
ভারতের ইতিহাসে হিন্দুদের মুসলমান হওয়ার এরূপ ঘটনা বহু। জোর করে কাউকে মুসলমান করা হয়নি। তরবারির জোরে ইসলাম প্রচারের অভিযোগ অলীক-কাহিনী, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুসলমান শাসক-সম্রাটদের সদাচরণ ও তাদের চারিত্রিক গুণাবলি এবং হিন্দুদের প্রতি তাদের নানা প্রকার সুবিধা প্রদান ও হিন্দু জমিদার শাসকদের নির্যাতন-বঞ্চনা হতে মুক্ত করার জন্য অনেকে মুসলমান হয় এবং ইসলামের শান্তির সুবাসে বসবাস করার সৌভাগ্য লাভ করে।
তবে এই বাস্তবতাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, যুগে যুগে যেসব পৌত্তলিক, মূর্তিপূজারী, অগ্নি উপাসক প্রভৃতি নানা ধর্ম-বর্ণের লোক ইসলাম গ্রহণ করে তাদের সবাই বলিষ্ঠ ও খাঁটি ঈমানের অধিকারী ছিল এ দাবি করা যায় না। দুর্বল ঈমানের লোকও ছিল এবং তাদের পূর্বধর্মের কুসংস্কারের প্রভাবও অনেকের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। এ কারণেই বিভিন্ন স্থানে মুরতাদদের অস্তিত্ব দেখা যায়।
সম্রাট শাহজাহানের সময়ে বর্ণিত যে তিনটি অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয় এবং তিনি সেগুলোর সুবিচার করেছিলেন। যার ফলে অভিনবভাবে চারশ’ হিন্দু তাদের অবৈধভাবে রাখা স্ত্রীদের পাওয়ার লোভে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে, কোনো জোর-জবরদস্তি ছিল না। কেননা সম্রাটের ন্যায়বিচারে তাদের ভাগেই সুফল আসে।
সম্রাট ইসলামী বিধিবিধান অনুযায়ী রায় প্রদান করেছিলেন। তিনি চাইলে ভিন্ন রায়ও দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, যার ফলে অপরাধী হিন্দুরা ইসলাম গ্রহণ করে এবং মুসলমান নারীদেরকেও স্ত্রী হিসেবে লাভ করে। বস্তুত সত্যিকারভাবে ইসলাম গ্রহণ করলে ইসলামপূর্ব কৃত সকল পাপ মোচন হয়ে যায়। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল ইসলামু ইয়াহদিমু মা কাবলাহু’। এই চিরন্তন বাণী সর্বকালে সর্বজনের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।


বিখ্যাত খৃষ্টান ধর্ম প্রচারক সুই ওয়াটসন পোপের ইসলাম গ্রহন

প্রকাশঃ ২০-০৫-২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ২০-০৫-২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপক খাদিজা ওয়াটসনের পূর্ব নাম ছিল সুই ওয়াটসন। তার মতে তিনি ছিলেন গোড়া খ্রিস্টান মৌলবাদী।

তিনি ছিলেন ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক। ধর্মতত্ত্বে তিনি বিএ এবং এমএ পাস করেছেন। ফিলিপাইনের খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারে তিনি সাত বছর কাটিয়েছেন। তবে সেসব বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। এখন তিনি মুসলিম এবং জেদ্দার আল-হামরা ইসলামিক এডুকেশন ফাউন্ডেশনের শিক্ষক

তিনি ইসলামের বাণীতে ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়ায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন। অধ্যাপক খাদিজার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা তার নিজের ভাষায় এখানে তুলে ধরা হল।

খাদিজা বলেন, ‘যখন আমি ইসলামে দাখিল হই তখন স্বাভাবিকভাবেই আমার সহকর্মী, সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব এবং সহ-ধর্মপ্রচারকারীরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমার কি হয়েছে। আমি তাদেরকে দোষ দেই না কারণ আমি একেবারেই ধর্ম পরিবর্তন করার মত কেউ ছিলাম না।

আমি একজন অধ্যাপক, ধর্মপ্রচারকারী মিশনারি পণ্ডিত ছিলাম। যদি কাউকে গোড়া মৌলবাদি বলা হয় তাহলে আমি তাই ছিলাম।

আমার মাস্টার ডিগ্রি শেষ হওয়ার ৫ মাস আগে এক মহিলার সাথে আমার সাক্ষাত হয় যে সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়েছিল এবং সেখানে ইসলাম গ্রহণ করেন। আমি তাকে ইসলামে মহিলাদের সাথে কিরকম আচরণ করা হয় সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তার জবাব শুনে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। এবং এ ধরণের উত্তর আমি প্রত্যাশাও করিনি কখনো।

তারপর প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে স্রষ্টা এবং নবী মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। সে আমাকে বললো, আমি তোমাকে একটি ইসলামিক সেন্টারে নিয়ে যাব সেখানে তুমি আরো ভালো করে তোমার উত্তরগুলো জানতে পারবে।

তার কথামত আমি সেই ইসলামিক সেন্টারে গেলাম। সেখানে তাদের ব্যবহার আমাকে খানিকটা অবাক করলো। একেবারেই সরাসরি, সামনাসামনি উত্তর। এতে কোনো রকম হুমকি, হয়রানি, মানসিক চাপ তৈরি অথবা আভ্যন্তরীন প্রভাব বিস্তারের বিষয় ছিল না। এটা ছিল অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তারা আমাকে কিছু বই দিল এবং বললো আমার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে তাদের অফিসেও তাদেরকে পাওয়া যাবে।

ওইদিন রাতে আমি সেসব বইগুলো পড়ে ফেলি যেগুলো তারা আমাকে দিয়েছিল। প্রথমবারের মত আমি কোনো মুসলিমের লেখা বই পড়লাম। এর আগে আমরা ইসলাম সম্পর্কে যেসব বই পড়েছি তা ছিল খ্রিস্টান লেখকদের লেখা। পরেরদিন আমি আবার তাদের অফিসে যাই এবং ৩ ঘণ্টা যাবত তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করি। এইভাবে প্রায় এক সপ্তাহ পার করি। এর মধ্যে আমি ১২টি বই পড়ি এবং বুঝতে পারি কেন মুসলিমদের জন্য খ্রিস্টানধর্মে দীক্ষিত হওয়া সবচেয়ে কঠিন বিষয়। কারণ তাদের জন্য এখানে কিছুই নেই! ইসলামে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক, পাপের জন্য ক্ষমা এবং পরকালীন জীবনের ওয়াদা এবং মুক্তির বিষয় রয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো প্রথম ৩০০ বছর চার্চের পুরোহিতরা শিক্ষা দিত যে যিশু হচ্ছেন (ঈসা নবী) স্রষ্টার প্রেরিত রাসুল এবং শিক্ষক। তারপর সম্রাট কন্সটান্টেইন এসে বললেন যিশু হচ্ছেন স্রস্টার তিন রূপের একজন।

কন্সটান্টেইন ব্যবিলনের সময়কার পৌত্তলিকদের পদ্ধতির সাথে সবাইকে পরিচিত করালেন। তিনি বলেন, মহাশূন্যের ভিতরকার মূল বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমাকে জানানো হয়নি তবে স্রস্টার ইচ্ছায় আমরা আরেকটি সময় পাব।

আমি একটি বিষয় ইঙ্গিত করছি তাহলো ‘ট্রিনিটি’ বা ত্রিত্ববাদ কথাটি বাইবেলের কোনো অনুবাদেই পাওয়া যায়নি, না রয়েছে এর আদি ভাষা হিব্রু অথবা গ্রিকেও।’

আমার অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ছিল নবী মুহাম্মদ সা.কে নিয়ে। আমি দেখলাম মুসলিমরা তার ইবাদত করে না যেমনটা খ্রিস্টানরা ঈসার ইবাদত করে থাকে। সে কোনো মাধ্যম নয় এবং তার ইবাদত করাও নিষিদ্ধ। আমরা তার জন্য রহমত কামনা করি যেমনটা ইব্রাহিমের জন্য করি। সে একজন সর্বশেষ নবী এবং বার্তাবাহক। আরো বিষয় হলো ১৪০০ বছর পরেও তার পরে আর কোনো নবী আসেনি। তার বাণী সবার জন্যই, এটা ঈসার বাণীর বিপরীত নয় যাকে ইহুদের প্রতি পাঠানো হয়েছিল। ‘শোনো ইহুদিরা, এ বাণী স্রষ্টার বাণী। স্রষ্টা একজনই এবং তোমাদের আর কোনো স্রষ্টা নেই আমি ছাড়া।(মার্ক-১২:২৯) ’

খ্রিস্টান জীবনে প্রার্থনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল আমার জন্য এবং মুসলিমরা কি প্রার্থনা করে এটা জানার আগ্রহও ছিল অনেক। একজন খ্রিস্টান হিসেবে মুসলিমদের বিশ্বাসকে আমরা উপেক্ষা করি। আমরা ভাবতাম এবং বলাবলি করতাম যে মুসলিমরা মক্কার কাবার পূজা করে। আমি আবারো বিস্মিত হলাম একথা জেনে যে তারা স্রষ্টার নির্দেশিত পদ্ধতিতে এটা করে। মুনাজাত বা প্রার্থনার কথাগুলোতে একজনের জন্য উচু প্রশংসা করা হয়। প্রার্থনা করার পুর্বে পরিচ্ছন্নতাও আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় হয়ে থাকে।

তিনি একজন পবিত্র স্রষ্টা এবং তার কাছে আমরা যেকোন পদ্ধতিতে চাইতে পারি না, তবে শর্ত হল তার দেখানো নির্ধারিত পদ্ধতিতেই চাইতে হবে।’

ঐ সপ্তাহ শেষে আমি একটা ধারণা পেলাম তা হল ইসলামই সঠিক পথ। তবে আমি তখনই তা গ্রহণ করিনি কারণ আমি এটাকে মন থেকে গ্রহণ করতে পারছিলাম না। আমি প্রতিনিয়ত প্রার্থনা করতে থাকলাম এবং বাইবেল পড়তে থাকলাম সাথে সাথে ইসলামিক সেন্টারেও যাতায়াত অব্যাহত রাখলাম। আমি খুব আন্তরিকভাবে চাইছিলাম যেন স্রষ্টা আমাকে সঠিক পথ দেখান। ধর্ম পরিবর্তন করা কোনো সহজ কাজ নয়। কোনোভাবেই আমি আমার মুক্তির রাস্তা বন্ধ করতে চাচ্ছিলাম না যদি তা প্রকৃত মুক্তির রাস্তা হয়।

আমি প্রতিনিয়ত বিস্মিত হচ্ছিলাম এটা জেনে যে আমি কি শিখেছিলাম। কারণ আমি তাই শিখেছিলাম যা ইসলাম বিশ্বাস করে না। মাস্টার্সে পড়ার সময় আমি একজন অধ্যাপককে সম্মান করতাম যার ইসলাম সম্পর্কে বেশ কিছু লেখা ছিল, কিন্তু খ্রিষ্টবাদ বিষয়েও তার শিক্ষা পদ্ধতিতে ব্যাপক ভুল বুঝাবুঝির বিষয় ছিল। সে এবং তার মত অন্যান্য খ্রিষ্টানরা সচেতন তবে সচেতনভাবেই তারা ভুলের মধ্যে আছেন।

দুই মাস পর আমি আবার প্রার্থনা করলাম স্রষ্টার নির্দেশের জন্য। আমি অনুভব করলাম আমার মধ্যে কিছু একটা পড়লো। আমি বসে পড়লাম এবং প্রথমবারের মত আমি স্রষ্টার নাম উল্লেখ করলাম। এবং বললাম, হে প্রভু, আমি বিশ্বাস করি তুমি এক এবং একমাত্র আসল স্রষ্টা। তখন আমার দেহের মাঝে এক শান্তির পরশ বয়ে গেল। তারপর থেকে গত ৪ বছর ধরে আমি ইসলামের দীক্ষা নিতে পিছপা হইনি। আমার এই সিদ্ধান্ত যাচাই ছাড়া আসেনি।

আমি যে দুটো কলেজে বাইবেল পড়াতাম সেখান থেকে একই সময়ে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আমার সাবেক সহপাঠী, অধ্যাপক এবং সহকর্মীরা আমাকে একঘরে করে ফেলল, শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা আমাকে অসম্মান করলো, আমার সন্তান আমাকে ভুল বুঝলো এবং সরকার আমাকে সন্দেহ করলো। ঐশ্বরিক এই বিশ্বাস ছাড়া এসব শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। মুসলিম হতে পারায় আমি স্রষ্টার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো এবং মুসলিম হয়েই যেন বাচতে পারি এবং মৃত্যুবরণ করতে পারি।

‘নিশ্চই আমার ইবাদত, আমার ত্যাগ, আমার জীবন এবং মরণ বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তার জন্যই। তার কোনো অংশীদার নেই। বলুন, আমি আদেশ প্রাপ্ত এবং আমিই প্রথম আনুগত্যশীল।’ (সূরা আন-আ’মঃ ১৬২-১৬৩)’

#ইসলাম গ্রহণ করলেন মার্কিন যাজক স্যামুয়েল শ্রপশায়ার
              (দৈনিক ইনকিলাব)

স্যামুয়েল শ্রপশায়ার। ৭০ বছর বয়সী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন বিখ্যাত ধর্ম যাজক। মুসলমানদের আতিথেয়তা ও পবিত্র কুরআনের স্পর্শে এসে ইসলামের আলোকিত জীবন ফিরেছেন। ইসলাম গ্রহণকারী স্যামুয়েল শ্রপশায়ারকে আহলান, সাহলান।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধর্মের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা যুগে যুগে ইসলামের আলোয় নিজেদের আলোকিত করেছেন। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ধর্ম যাজক স্যামুয়েল শ্রপশায়ার পবিত্র কুরআনুল কারিম গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

ইসলাম গ্রহণ করার পর সাবেক এ ধর্ম যাজক জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সময় মুসলমানদের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব উপস্থাপন করতে দেখেছি। দেখেছি কুরআনুল কারিম নিয়ে সমালোচনা করতে। আর তা থেকে মুসলমান ও কুরআন সম্পর্কে জানতে প্রচণ্ড আগ্রহ অনুভব করতাম।

সে চিন্তা-চেতনা থেকে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে জানার জন্য ২০১১ সালে প্রথম সৌদি আরব আসি। সৌদি আরবের জেদ্দায় কুরআন নিয়ে গবেষণার সময় মুসলমানদের কাছ থেকে পেয়েছি অনুপম আতিথেয়তা। মার্কিন গণমাধ্যমে প্রচারিত যা মুসলমানদের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাবের কিছুই পাইনি। আর তখনই ইসলামের প্রতি আমার এক অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি হয়ে যায়।

বর্তমানে সৌদি আরবের অবস্থান করা সাবেক মার্কিন যাজক স্যামুয়েল শ্রপশায়ার গতকাল মঙ্গলবার (২১ মে) গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

প্রথমবার যখন সৌদিতে আসি তখন আমি মুসলিম কিনা অমুসলিম সেটা বিবেচনা না করে কেবল মানুষ হিসেবে আমার সঙ্গে তারা উত্তম আচরণ করেছিলো। মুসলমানরা এক আল্লাহর উপাসনা করে। নীতি নৈতিকতায় তারা অনন্য।

বর্তমানে শান্তি ও সংহতির জন্য মুসলমানদের কণ্ঠস্বর নামে একটি অলাভজনক সংগঠন পরিচালন কাজ করছেন স্যামুয়েল শ্রপশায়ার।
                     (23 মে 2019)


আলোর পথে 2

ব্রাজিলের ফুটবল তারকার ইসলাম গ্রহণ, উমরাহ করতে বায়তুল্লায়

ব্রাজিলের ফুটবল তারকা সার্জিও রিকার্ডো ইসলাম গ্রহণের ঘোষণার কয়েকদিন পরেই তাকে মক্কা মুকাররমায় উমরাহ করতে দেখা গেছে।

স্ট্যাপ ফিড পত্রিকা ও আল আখবারুস সাউদিয়্যার বরাতে জানা যায়, ব্রাজিলের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক ফুটবল তারকা সার্জিও রিকার্ডো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি তার ভেরিফাইড টুইটার একাউন্টে তিনি লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ এখন আমি একজন মুসলমান, আমি উমরাহ করতে এসেছি সৌদি আরবে।

আল আখবারুস সাউদিয়্যা পত্রিকায় কয়েকটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায় ব্রাজিলের এ ফুটবল  তারকা বায়তুল্লাহয় উমরাহ সম্পূর্ণ করছেন। লোকজন তাকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন।  তার মুসলিম নাম রাখা হয়েছে ইত্তিহাদ জামান।

জানা যায়,  ২২ মে রিকার্ডো ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সৌদি ফুটবলার মুহাম্মদ সাঈদের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমি মনে করি এ সিদ্ধান্ত আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।

এ ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় ২০১০ সালে অবসরপ্রাপ্ত হয়ে মিডিল ইস্ট এর কয়েকটি ক্লাবে খেলছিলেন। আর সেখানেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারেন। অনুপ্রাণিত হোন। ইসলাম গ্রহণ করেন।

সূত্র: আল আখবারুস সাউদিয়্যা


##ইসলাম গ্রহণ করলেন ঘানার এমপি

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানার  সংসদ সদস্য কেনেডি আগায়াপং ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর নিজের নাম পরিবর্তন করে তিনি শেইখ উসমান রেখেছেন।

কিছুদিন তিনি পাকিস্তানে ছিলেন। সে সময় মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে বসবাস করে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করেছিলেন যে, ইসলামই প্রকৃতপক্ষে শান্তির ধর্ম এবং মানবিক গুণাবলি বিকাশে উৎসাহিত করে। এই অভিজ্ঞতা তাকে কাজে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমকে সাবেক কেনেডি আগায়াপং জানান, ২০১২ সালে তাকে গ্রেফতারের পর মুসলমানদের প্রতি তার গভীর প্রেম বিকাশ পেয়েছিল। যখন কিছু মুসলিম যুবক দোয়া-প্রার্থনার মাধ্যমে তার মুক্তি কামনায় বিভিন্ন রকমের চেষ্টা করেছিলেন।

সে সময় কিছু মুসলিম যুবক এবং নারী-পুরুষ উভয়েই পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে কয়েক মিটার দূরে তার মুক্তির জন্য গুরুত্ব সহকারে ইবাদত-দোয়া করেছিলেন। তখন তিনি ইসলামের প্রতি আরো গভীরভাবে আকৃষ্ট হন।

ঘানা ওয়েবের নেট-২ টিভির একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যখন আমি সাঁজোয়া গাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসি, পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে আমার মুক্তির জন্য অনেক মুসলিমকে  দোয়া করতে দেখেছি। এতে আমি ইসলামের প্রতি প্রীত ও তাড়িত হই।

২০১২ সালের ঘানা স্ট্যাটিকালিকাল সার্ভিসের আদমশুমারি অনুযায়ী ঘানাতে মুসলমানদের সংখ্যা ৪৫%। এসব মুসলিম স্থানীয় আকন জাতি ছাড়াও অন্য জাতি থেকে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন।

মুসলমানরা উত্তর ঘানাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কারণ ঘানায় ইসলামের আগমন হয় দশম শতাব্দীতে আর ১৫ তম শতাব্দীতে। খ্রিস্টধর্ম ঘানায় প্রবেশের অনেক আগেই দেশটিতে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল।

সূত্র: ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক 12 জুন 2019


##ইসলাম মানুষকে সবচেয়ে সহজ সরল পথের সন্ধান দেয়: ধর্মান্তরিত মার্কিন নারীর কলাম
সুমাইয়া মিহান:

ইসলাম ধর্মের বিশ্বজনীনতা একই সাথে নওমুসলিম এবং জন্ম সূত্রে মুসলিম উভয়কেই আকৃষ্ট করে। এই সুন্দর ধর্মটির আজ থেকে প্রায় ১,৪০০ বছর পূর্বে শান্তির বাণী নিয়ে মানব জাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভাব হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর আমি তা যথাযথভাবে নাযিল করেছি এবং তা যথাযথভাবেই নাযিল হয়েছে। আমি তো তোমাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রুপে পাঠিয়েছি।’- (আল কুরআন, সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত- ১০৫)
পবিত্র কুরআন এবং মহানবী মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নাহ মানব জাতির জীবন ধারায় সত্যিকারের পথ প্রদর্শন করে থাকে। সুতরাং ইসলামের মধ্যে ঠিক এমন কি রয়েছে যার জন্য অনেকেই তাদের পূর্ব পুরুষের ধর্ম পরিত্যাগ করছে?
কাল্পনিক কাহিনীকে পায়ে ঠেলে সত্য দাঁড়িয়ে রয়েছে
যখন লোকজন নিজেদের মধ্যকার সত্য অনুভব করতে থাকে তখন তারা আপনা আপনিই তাদের সৃষ্টিকর্তার দিকে ছুটে যায়।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নিঃসন্দেহে তুমি যাকেই ইচ্ছা করবে তাকে সৎপথে আনতে পারবে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভালো জানেন কারা সৎপথের অনুসারী।’- (আল কুরআন, সূরা আল কাসাস, আয়াত- ৫৬)
যুক্তরাজ্যের নাগরিক বোন জেনিন ফেনের হৃদয়ে ইসলাম এসেছে তার তরুণ সন্তানের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যখন সে তার কোনো মুসলিম বন্ধুর কাছে শুনেছিল যে, যিশু খ্রিষ্ট আসলে সৃষ্টিকর্তার সন্তান নয় তখন সে আমার নিকট ইসলাম সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। আর একদিন সে বাসায় এসে জানায় যে, সে আজ থেকে একজন মুসলিম। সে আজানের শব্দ শুনতে পেয়েছিল এবং এটিই তার ইসলাম গ্রহণের জন্য যথেষ্ট ছিল।’
একমুখী রাজপথ
আপনারা সবসময় এমনটি শুনে এসেছেন ‘এটি একটি দ্বিমুখী রাস্তা’ যা অনেক কিছুই নির্দেশ করে। হতে পারে এটি কারো সাথে আপনার সম্পর্কে বিষয়ে, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অথবা কোনো ধর্ম সম্পর্কে হওয়া কোনো আলোচনা।
আর ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে, এটি শুধুমাত্র এক মুখী একটি রাজপথের সন্ধান দেয় যা আপনাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। ইসলাম ধর্মে গোপনীয়তার কোনো বিষয় নেই। ইসলাম ধর্ম আপনা থেকেই সহজ একটি ধর্ম।
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘....আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না....।’- (আল কুরআন, সূরা আল বাকারা, আয়াত-১৮৫)
আর কেনিয়ার নাগরিক ভাই ইউসুফের নিকট ইসলাম এসেছে তার ১৭ বছর বয়সে যখন তিনি তার নিজের ধর্ম নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং তা থেকে মোহ মুক্ত হন।
আর তিনি ইসলাম সম্পর্কে সত্য আবিষ্কার করে অবাক হয়ে যান এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছিলাম যে, সারা বিশ্বের সকল মুসলিমরা একই এবং তাদের মধ্যকার কোনো বিভেদ নেই আর তারা ঠিক একই ভাবেই ইবাদত করে।’
সৃষ্টিকর্তার সাথে যোগ সূত্র স্থাপনের জন্য যখন অনেক জটিল পথ সামনে এসে দাঁড়ায় তখন একমাত্র ইসলাম ধর্মই বিশ্বাসীদের সাথে মহান আল্লাহ তায়ালার যোগ সূত্র স্থাপনের জন্য একটি সহজ এবং সোজা পথের নির্দেশ করে।
একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা
কিছু কিছু সময় একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা অথবা এমন কোনো বিষয় সামনে এসে দাঁড়ায় যা একজন মানুষকে ইসলামি বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করে।
আর জাম্বিয়ার নাগরিক ভাই থমাস, যিনি তার ২৫ বছর বয়সে একটি স্বপ্ন দেখেন যা তার হৃদয়কে আলোকিত করে এবং তাকে ইসলামি বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করে।
তিনি বলেন, ‘আমি স্বপ্নে আজানের শব্দ শুনতে পাই এবং আমি আজান দাতাকে অনুসরণ করতে থাকি আর একটি মসজিদে পৌঁছাই। আর এর পরেই আমি একজন মুসলিম হয়ে যাই এবং এর পর থেকে আমি আর পিছনে ফিরে তাকাই নি।’
এভাবেই কোন কোন সময় কিছু ছোটখাট ঘটনা যেমন স্বপ্ন অথবা পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্যে কিছুটা ফারাক ইত্যাদির মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালা অনেকের হৃদয়কে আলোকিত করেন যাতে তারা সহজেই ইসলাম সম্পর্কে তাদের প্রশ্নসমূহের উত্তর পেতে পারেন এবং ইসলাম গ্রহণ করতে পারেন।
মুসলিম হওয়ার পথ অনুসরণ করার জন্য শুধুমাত্র সঠিক দিকে একটুখানি অগ্রসর হওয়াই যথেষ্ট।
সূত্র: এবাউট ইসলাম ডট কমে প্রকাশিত সুমাইয়া মিহানের কলাম থেকে যিনি ২৩ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ফৌজদারী আইনে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং একই সাথে তিনি একজন সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সার গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্যে বসবাস করেন।

সূত্র: কিসাস এরাবিক নেট


## পরিতোষ মণ্ডল হলেন ইবরাহিম




##ইসলাম আমার গোটা চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে : নওমুসলিম মুস্তাফা বিল্লাল

চার্লস মুস্তাফা বিল্লাল ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম মেয়র। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব টেক্সাসের কুনটজের মেয়র ছিলেন।

কুনটজের ৯৯ শতাংশ অধিবাসী খ্রিস্টান হলেও তিনি ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। সেটা ১৯৯২ সালের কথা। ১৯৯৪ সালে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি মেয়র পদে পুনর্নির্বাচিত হন।

তার মানে, আগের চেয়ে পরবর্তী মেয়াদে তাঁর জনসমর্থন আরো বৃদ্ধি পায়। চার্লসের জন্ম ১৯৪৮ সালের ৪ মে। তিনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা করেছেন। এক্স-রে টেকনোলজির ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাঁর স্ত্রীর নাম খেরেসা। তাঁদের তিন মেয়ে যথাক্রমে আমিনা, আয়েশা ও গেব্রিলি।

১৯৭০ সালের প্রথম দিকে বিল্লাল ইসলামে দীক্ষিত হন

ইসলামের প্রতি তাঁর অনুরাগের সূচনা অভিনবভাবে। তিনি একবার বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মুহাম্মদ আলীকে রিংয়ের মধ্যে নামাজ পড়তে দেখলেন। এই দৃশ্য তাঁকে অভিভূত করে। তা ছাড়া আমেরিকার মুসলিম নেতাদের ব্যবহার ও সংস্পর্শে অনুপ্রাণিত হন। তাঁদের মধ্যে ইলিজাহ মোহাম্মদ ও ইমাম ওয়ারিত উদ্দিন মোহাম্মদের নাম উল্লেখযোগ্য।

আরব নিউজ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি পবিত্র কোরআন থেকে কিছু প্রশ্নের জবাব পেয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হই। এরপর ইসলাম কবুল করি। ’


ইসলাম গ্রহণের আগে তাঁর নাম ছিল চার্লস এডওয়ার্ড জেনকিনসা। এই নাম পরিবর্তন করে তিনি চার্লস মুস্তাফা বিল্লাল নাম ধারণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা তাঁকে ত্যাগ করে। এতে তিনি মোটেও চিন্তিত হননি। তিনি বিশ্বাস করেন,

মহানবী (সা.) প্রতিটি মানুষের জন্য জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ধর্ম-বর্ণ-জাতীয়তা-নির্বিশেষে যে কেউ মহানবী (সা.)-এর এই দিকনির্দেশনা মেনে চলতে পারে। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘তিনি গোত্র ও জাতি সৃষ্টি করেছেন। এটা এ জন্য নয় যে তারা পরস্পরকে ঘৃণা করবে; বরং এ জন্য যে তারা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হবে। ’

বিল্লালের মতে, ‘ইসলাম আমার গোটা চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের পাপ-গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। কোরআনে আল্লাহ তাঁর ক্ষমা, দয়া ও করুণার কথা বর্ণনা করেছেন। ’

খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিল্লাল বলেন, ‘খ্রিস্টধর্মের ব্যাপারে আমার মনে নানা রকম প্রশ্নের উদ্রেক হতো। তাই প্রকৃত সত্য জানার জন্য আমি উত্সুক ছিলাম। খ্রিস্টধর্মের কতগুলো বিষয়ে আমার মনে জেগেছিল সংশয় ও সন্দেহ। ’

বিল্লালের মতে, তথাকথিত কালো মানুষ আমেরিকায় এমনিতেই আসেনি। তাদের আফ্রিকা থেকে জোরপূর্বক এখানে আনা হয়েছিল। তারা অনেকেই ছিল মুসলিম। এখন তাদের আগের নাম ও ধর্ম (ইসলাম) কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এসব লোকের অনেকে তাদের পূর্বপরিচয় জানতে পারছে।

তাই তারা এখন মুসলিম নাম ধারণ করার প্রয়াস পাচ্ছে। এত দিন তারা ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে তারা খোলাখুলিভাবে বলতে পারছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রেরিত পুরুষ।

চার্লস বিল্লাল আফ্রিকান-আমেরিকান মুসলমানদের ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মুসলিম বিশ্বের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাসূচিতে এই ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন।

বিল্লাল আমেরিকার মুসলমান ও ইসলামের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় ছয় মিলিয়নেরও বেশি মুসলমান আছে। বর্তমান সময় আমেরিকার মুসলমানদের অনুকূলে। ইসলামের সত্যনিষ্ঠ শিক্ষা ধর্মের প্রতি আমেরিকানদের আকর্ষণ করেছে। ’

বিল্লাল আরো বলেন, ‘আমার জীবনের আমূল পরিবর্তন এবং বর্তমান জীবনধারা কিছু লোককে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে। তারা ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন স্কুল এবং খ্রিস্টান সম্প্র্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলাম সম্পর্কে বলার জন্য আমাকে অতিথি হিসেবেও অনেকে দাওয়াত দিচ্ছেন। ’

পশ্চিমা জগতের মুসলিমবিদ্বেষ সম্পর্কে বিল্লাল বলেন, ‘মুসলমানদের সম্পর্কে ভুল-বোঝাবুঝিই এর প্রধান কারণ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও বিকাশ সাধিত হলে এই ভুল-বোঝাবুঝি অবশ্যই দূর হয়ে যাবে। ’

মেয়র হিসেবে তাঁকে নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চার্লস বিল্লাল বলেন, ‘জনগণ একজন ভালো লোক চায়। টেক্সাসে একজন মুসলিম যদি তিনবার পর পর নির্বাচিত হতে পারে, তাহলে আমেরিকার অন্যত্রও তা অসম্ভব নয়। ’
ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালনের বেলায় সমাজে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কি না জিজ্ঞেস করা হলে বিল্লাল বলেন, 
‘আমি ধর্মের ব্যাপারে কোনো কিছুর সঙ্গে আপস করিনি। আমি মেয়র অফিসের কাউন্সিল সভা সুরা ফাতিহা পাঠ করে শুরু করেছি। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রেখেছি যে তা যেন আমেরিকার রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। মেয়র হিসেবে একজন মুসলিম ব্যক্তির সফলতা ও অপূর্ব অর্জন নিয়ে সিএনএন চ্যানেল একবার আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। ’

মেয়র বিল্লালের মতে, ইসলাম আমেরিকার সবচেয়ে বিকাশমান ধর্ম। সেখানকার সব শ্রেণি বা গোত্রের লোক ইসলাম গ্রহণ করছে। তিনি ইসলামের বিকাশের জন্য দাওয়াতি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

তাঁর মতে, ‘প্রত্যেক মানুষ হচ্ছে মুসলমান। কেউ কেউ মুসলমানদের কাছে ইসলাম সম্পর্কে শুনে মুসলমান হচ্ছে। কেউ বা না বুঝেশুনে অমুসলিম থেকে যাচ্ছে। তাই এটা খুবই জরুরি বিষয় যে আমাদের ধর্ম প্রচারের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে। ’

চার্লস বিল্লাল বলেন, ‘ইসলাম আমেরিকার জনগণের জীবনধারায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আমি মনে করি, আমেরিকার মুসলমানদের অগ্রযাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং এই জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে যথেষ্ট অবদান রাখবে। ’

বিল্লালের মতে, মুসলমানদের প্রকাশিত বিভিন্ন জার্নাল ইসলামের পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি মনে করেন, আমেরিকায় আরো বেশি স্কুল ও মসজিদ গড়ে ওঠা উচিত। এতে মুসলমানদের ছেলে-মেয়েরা বেশি বেশি লেখাপড়া

সুযোগ পাবে এবং তাদের মধ্যে গড়ে উঠবে ইসলামী পরিবেশ।

মেয়র বিল্লালের মতে, আমেরিকায় ইসলামী ব্যাংকের খুবই প্রয়োজন। তা ছাড়া ইসলাম প্রসারের জন্য দরকার ইসলামী সাহিত্যের ব্যাপক প্রচার। ইসলামের তৎপরতা অমুসলিমদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ বা বিরাগের সৃষ্টি করছে কি না,

এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিল্লাল বলেন, ‘এটা একটা ভালো প্রশ্ন। কিছু লোক তো অসন্তুষ্ট হচ্ছেই। তাদের কেউ কেউ আবার মুসলমান। আবার কেউ বা খ্রিস্টান। তবে আমি মনে করি, আমেরিকায় ইসলামী শিক্ষার প্রসারের চেষ্টা আরো বাড়ানো উচিত। ’
      
 সূত্র: বার্তাবাহক,কম


   ##মার্কিন নওমুসলিমের জানাজায় মানুষের ঢল

 প্রকাশিত: ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৯

আমেরিকান নাগরিক সারান্দ সিমোনা (৬০)। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার নয় দিন পর ইন্তেকাল করেন মার্কিন এই নওমুসলিম নারী। খবর খালিজ টাইমসের।

খবরে বলা হয়, অনেক দিন ধরেই ক্যান্সারে ভুগছিলেন সারান্দ সিমোনা। আর এই কান্সারের কারণেই মৃত্যু হল তার। সারান্দ স্বামীসহ কুয়েতে বসবাস করতেন। কুয়েতে স্বীমী ছাড়া সারান্দর কোনো অত্মীয় ছিল না কিন্তু তার জানাজার নামাজে বহু মুসলিম জড়ো হয়। তাদের সবাইকে সারান্দর স্বামী ধন্যবাদ জানান।

কুয়েতি সংবাদ মাধ্যমে আল-রাই’র বরাত দিয়ে খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সারান্দের স্বামী জন লরিস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

এর ৯ দিন পর গত ১০ জুন সারান্দ সিমোনাও  ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি সেনা ক্যাম্পে কাজ করতেন।

 কুয়েতে মারা যাওয়ার ৯ দিন আগে সারান্দ ইসলাম গ্রহণের সার্টিফিকেট পান।

আইএ/ পাবলিক ভয়েস


##ট্রাম্পের নাকের ওপর ইসলাম গ্রহণ করলেন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী লিসা শানকিন


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণাত্মক ভাষার মুখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন লিসা শানকিন। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণাত্মক বক্তৃতা এই আমেরিকান নারীকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করতে সহায়তা করেছে।



লিসা শানকিন একজন সাবেক সাইকোথেরাপিস্ট। তিনি মনোবিজ্ঞানের ওপর শার্লট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন।

শানকিন ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে হিজাব পরা শুরু করেন। এ দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

তিনি তার ফেসবুকে পেজে লিখেছেন, ট্রাম্পের ঘৃণ্য উক্তি আমাকে একটি বছর আগে কোরআন নিয়ে অধ্যয়ন করতে পরিচালিত করেছে (বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ধর্মের অধ্যয়নের সময় যা আমার পড়া হয়নি) এবং ঘনিষ্ঠভাবে এটি অধ্যয়ন করছি।

তিনি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি যে দিন ট্রাম্প শপথ নিবেন; সেই দিন থেকে আমার প্রকাশ্যে হিজাব পরা শুরু হবে। বিশ্বে আমেরিকাতেই সবচেয়ে বেশি ইসলামে ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটছে। ৯/১১ পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ালেও সেখানে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে।

তারিখ:29/06/2019
সূত্র:  সন্দেশ24.com

##ইসরায়েলে ইহুদি ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন এক পরিবার

 জুলা ২৬, ২০১৯ / ০৩:০৪অপরাহ্ণ

আওয়ার ইসলাম:  ইসরায়েলে ইহুদি ধর্ম ছেড়ে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এক নারী।

ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল থার্টিন জানিয়েছে, ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ইলাত শহরে বসবাসকারী এ নারী হঠাৎ করেই তার পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দেন।

ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় গণমাধ্যম দুনিয়া আল-ওতানের খবরে বলা হয়েছে, মুসলিম হওয়ার পরে ইলাত ছেড়ে সপরিবারে পশ্চিম তীরের খলিল পর্বতের পাদদেশে হিজরত করেছেন নওমুসলিম ওই নারী।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরে ইলাতে থাকাকালীন সময়ে পরিবারের দুটি শিশুবাচ্চাকে সাময়িক সময়ের জন্য অপহরণ করে ইসরায়েলের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদেরকে বাপদাদাদের ভিটেমাটি ছাড়ার হুমকি দেয়।

এরই প্রেক্ষিতে জীবন বাঁচানোর তাকিদে পশ্চিম তীরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তারা। তবে পরিবারের মোট কতজন ইসলাম গ্রহণ করেছেন, খবরে তা বলা হয়নি।

নওমুসলিমের হাতে লক্ষ মুসলমান

##দ্বীন মুহাম্মদ শেখ। ১৯৪২ খৃষ্টাব্দে পাকিস্থানের সিন্ধু প্রদেশের বাদিন জেলার মাতলি দ্বীন মুহাম্মদ শেখ। ১৯৪২ খৃষ্টাব্দে পাকিস্থানের সিন্ধু প্রদেশের বাদিন জেলার মাতলি শহরে জন্ম নেয়া এক হিন্দু ব্রাহ্মন সন্তান। তার বাল্যকালেই তিনি ঘটনাক্রমে কুরআনের সুর ও আওয়াজের সাথে পরিচিত হয়ে উঠেন। কুরআনের সুর তার কানে চমৎকার ব্যঞ্জনা তোলে।
হিন্দু পরিবারের সন্তান তিনি, তার পক্ষে কুরআন জানা ও পড়ার কোন সুযোগ থাকার কথা নয়। তা ছাড়া উপমহাদেশীয় সংস্কৃতির প্রভাবে যে সামাজিক অবস্থা, তাতে স্বভাবতই একজন হিন্দু কুলিন ব্রাহ্মন সন্তানের পক্ষে কুরআন অধ্যায়ন সহজ নয়।
তবে মুসলিম প্রধান দেশ পাকিস্থানের নাগরিক হবার সুবাদে তিনি তার বাল্যকালেই আর দশজন হিন্দু নাগরিকের মতো কুরআনের তেলওয়াত শুনেছেন চলতি পথে, বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন স্থানে। আর দশজনের মনে কোন প্রতিক্রিয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই, তবে দ্বীন মুহাম্মদ শেখের মনে যে নিভৃতে গোপনে এক বিরাট প্রতিক্রিয়া হয়েছে, সেটা আজ সারা বিশ্বই জেনে গেছে। জেনেছি আমরাও। জেনেছি বড় বিষ্ময়ের সাথে। লজ্জা ও অনুতাপ মেশানো আনন্দের সাথে।
লজ্জা এই কারণে যে, দ্বীন মুহাম্মদ শেখ একজন হিন্দু থেকে মুসলমান হয়ে ইসলাম প্রচারে, কুরআনের বাণী প্রচারে যে বিরাট কাজটা করেছেন, তা আমরা কোটি মুসলমান সকলে মিলেও করতে পারিনি। এমনকি, আমাদের আল্লামা আর বড় বড় শেখরাও নন। স্টেজ কাঁপানো, ফিক্বহ ও মাসলা মাসায়েলের ছোটো খাটো বিতর্ককে কেন্দ্র করে যাকে তাকে, যখন তখন কাফের ফতোয়া দিয়ে ইসলামের গন্ডি থেকে বের করে দিতে তৎপর মুফতিরাতো নয়ই। সারাদিন ধরে ভার্চুয়াল জগতে জাঁদরেল আলেম সেজে বসারাও সে কাজটি করতে পারেন নি।
এটা আমাদের জন্য আনন্দের ঘটনা এই কারণে যে, দ্বীন মুহাম্মদ শেখ ইসলাম গ্রহণ করে আরবি শিখেছেন, কুরআন শিখেছেন, হাদিস শিখেছেন এরপরে নিজেই নেমে পড়েছেন বিশ্বের সকলের কাছে ইসলামের বাণী, কুরআনের বাণী পৌছে দিতে! তার ইচ্ছা, বিশ্বের সকলেই যেন মুসলমান হয়ে যায়! আহা, কি বিরাট আশা!
বিশ্বমানবতার জন্য কি বিরাট কল্যাণকামীতা। গত তিরিশ বসরে লক্ষাধিক লোক তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণও করেছেন!
অথচ তিনি জন্মেছেন এক হিন্দু পরিবারে। কৈশোর বয়সেই লুকিয়ে লুকিয়ে কুরআনের অনূবাদ পড়তেন, কোথাও কুরআনের আওয়াজ ভেসে আসলে মন দিয়ে তা শুনতেন। ক্রমে ক্রমে তা বেড়েই চলে, একটা পর্যায়ে এটা যেন তার নেশায় পরিণত হয়!
কুরআনের প্রতি তার সীমাহীন এই আগ্রহ ও টান কিভাবে যেন মা’ও টের পেয়ে যান। মা-বাবা ও পরিবারের সকলেই বকাঝকা থেকে শুরু করে তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে কুরআনের প্রতি দ্বীন মুহাম্মদ শেখের টান কমাতে। কুরআনের দিক থেকে তার মনযোগ ফেরাতে। কিন্তু তাদের সব চেষ্টা-প্রচেষ্টা বিফল হয়েছে শোচনীয়ভাবে।
অবস্থা বেগতিক দেখে মা মাত্র পনেরো বসর বয়সেই তাকে এক হিন্দু মেয়ের সাথে বিয়েও দিয়ে দেন, এই আশায় যে, যৌবনবতী স্ত্রীর টানে হয়তো দ্বীন মুহাম্মদের মন থেকে কুরআনের টান কমে আসবে। কিন্তু এতেও কোন লাভ হয় নি। ঘটেছে উল্টোটাই! দ্বীন মুহাম্মদ শেখের মনে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ আরও বেশিমাত্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।
এ পর্যায়ে দ্বীন মুহাম্মদ শেখের পরিবার, আত্মীয় স্বজন তার উপরে ক্ষিপ্ত হেয় উঠে। আপনজনদের পক্ষ থেকে শুরু হয় ভীতি প্রদর্শন আর অত্যাচার নির্যাতন। বিষয়টা দ্বীন মুহাম্মদ শেখের কাছেও ধৈর্য আর সহ্যের বাইরে চলে গেল। তিনি চুড়ান্ত স্বিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন।
ভাগ্য তার জন্য সুপ্রসন্ন ছিল। তারই এক চাচা, বলাই বাহুল্য, তিনিও হিন্দু, এসে জুটলেন দ্বীন মুহাম্মদ শেখের সাথে। তিনিও ইসলাম গ্রহণ করবেন। উভয়ে মিলে ১৯৮৯ খৃষ্টাব্দে প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন দেব দেবি মুর্তিপূজায় তাদের কোন বিশ্বাস নেই, কোন সম্পর্কও নেই। এর পরপরই তারা উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
এর পরেই শুরু হলো চাচা ভাতিজার মিশন। আশে পাশে সবাইকে মুসলমান বানাবেন! তবে সবার আগে তারা সায়েন মুহাম্মদ জাগশি নামের স্থানীয় এক আলেমের কাছে কুরআন পড়া শিখলেন, ফিক্বহ ও হাদিস পড়লেন কয়েক বসর।
বিশ্ববাসীর কাছে ইসলাম তুলে ধরার মিশনে নেমে দ্বীন মুহাম্মদ শেখ অপ্রত্যাশিতভাবে সফলতা পেতে থাকলেন। স্থানীয় পাকিস্থানী মুসলমানরা তার সাহায্যে এগিয়ে এলেন। পাকিস্থান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার জেনারেল সিকান্দার হায়াতসহ অনেকেই তাকে আর্থিক সাহায্য করতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখান করলেন।
তবে তাদের সকলকে অনুরোধ করলেন নওমুসলিমদের নিজ নিজ যোগ্যতানুযায়ী কোন একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেবার জন্য। 
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সিকান্দার হায়াতের ঐ অঞ্চলে একটা চিনির মিল আছে, তিনি সেই মিলে নওমুসলিমদের মধ্যে অনেকেরই চাকুরির ব্যবস্থা করে দিলেন।
দ্বীন মুহাম্মদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা ইসলাম গ্রহণ করলেন, তিনি তাদেরকে নামাজ শেখালেন। প্রথম চল্লিশদিন কেবলমাত্র ফরজ নামাজগুলোই আদায় করতে বললেন। চল্লিশ দিন পর থেকে অন্যান্য নামাজগুলোও শুরু করালেন। এভাবেই তাদেরকে নামাজে পাবন্দী করে গড়ে তুললেন।
সময় গড়িয়ে যাবার সাথে সাথে তার হাতে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েই চললো। যারা ইসলাম গ্রহণ করলো, তিনি তাদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করাসহ পূনর্বাসনেও এগিয়ে এলেন। নিজের বাড়ির পেছনের অংশে এইসব নওমুসলিমদের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন ‘জামেয়া আল্লাহওয়ালী’ নামের এক মসজিদ।
এইসব নওমুসলিম এবং তাদের পরিবার পরিজন ও সন্তান সন্ততিদেরকে কুরআন হাদিস তথা ইসলাম শেখানো জন্য প্রতিষ্ঠা করলেন ‘মাদ্রাসা-ই-আয়েশা ও তালিমুল কুরআন’!
ইসলামের প্রতি দ্বীন মুহাম্মদ শেখের নিষ্ঠা, শ্রম আন্তরিকতা আর এক আল্লাহর প্রতি তার অগাধ নির্ভরতা অবিশ্বাস্য ফল এনে দিল। হিন্দু ধর্ম থেকে সাতচল্লিশ বসর বয়সে ইসলাম গ্রহণকারী এ নওমুসলিমের হাতে আজ পর্যন্ত এক লক্ষ আট হাজার (১০৮০০০) মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন! (সুত্র: পাকিস্থানের ইংরেজি পত্রিকা The Express Tribune, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ সংখ্যা)
স্থানীয় হিন্দুরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপরে বেশ কয়েকবার আক্রমণ করেছে, একবার অপহরণও করা হয়েছিল তার পুত্রবধূসহ, কিন্তু তিনি দমে যান নি। তার মিশনও বন্ধ করেন নি। আশ্চর্জের বিষয় হলো, দ্বীন মুহাম্মদ আজ পর্যন্ত যে লক্ষাধীক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে, তাদের প্রত্যেকের সাথে কোন না কোনভাবে সংযোগ রক্ষা করে চলেছেন। প্রত্যেকের নাম ঠিকানা ও ফোন নম্বর রেখেছেন নিজ সংগ্রহে।
দ্বীন মুহাম্মদ শেখের এই অসাধ্য সাধনের মধ্যে আমাদের জন্য এক বার্তা রয়েছে। আমরা যদি সে বার্তাটি এখনও ধরতে না পারি, তা হলে বুঝতে হবে আসলেই আমাদের ললাটে দু:খ আছে। জন্ম নেয়া এক হিন্দু ব্রাহ্মন সন্তান। তার বাল্যকালেই তিনি ঘটনাক্রমে কুরআনের সুর ও আওয়াজের সাথে পরিচিত হয়ে উঠেন। কুরআনের সুর তার কানে চমৎকার ব্যঞ্জনা তোলে।
হিন্দু পরিবারের সন্তান তিনি, তার পক্ষে কুরআন জানা ও পড়ার কোন সুযোগ থাকার কথা নয়। তা ছাড়া উপমহাদেশীয় সংস্কৃতির প্রভাবে যে সামাজিক অবস্থা, তাতে স্বভাবতই একজন হিন্দু কুলিন ব্রাহ্মন সন্তানের পক্ষে কুরআন অধ্যায়ন সহজ নয়।
তবে মুসলিম প্রধান দেশ পাকিস্থানের নাগরিক হবার সুবাদে তিনি তার বাল্যকালেই আর দশজন হিন্দু নাগরিকের মতো কুরআনের তেলওয়াত শুনেছেন চলতি পথে, বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন স্থানে। আর দশজনের মনে কোন প্রতিক্রিয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই, তবে দ্বীন মুহাম্মদ শেখের মনে যে নিভৃতে গোপনে এক বিরাট প্রতিক্রিয়া হয়েছে, সেটা আজ সারা বিশ্বই জেনে গেছে। জেনেছি আমরাও। জেনেছি বড় বিষ্ময়ের সাথে। লজ্জা ও অনুতাপ মেশানো আনন্দের সাথে।
লজ্জা এই কারণে যে, দ্বীন মুহাম্মদ শেখ একজন হিন্দু থেকে মুসলমান হয়ে ইসলাম প্রচারে, কুরআনের বাণী প্রচারে যে বিরাট কাজটা করেছেন, তা আমরা কোটি মুসলমান সকলে মিলেও করতে পারিনি। এমনকি, আমাদের আল্লামা আর বড় বড় শেখরাও নন। স্টেজ কাঁপানো, ফিক্বহ ও মাসলা মাসায়েলের ছোটো খাটো বিতর্ককে কেন্দ্র করে যাকে তাকে, যখন তখন কাফের ফতোয়া দিয়ে ইসলামের গন্ডি থেকে বের করে দিতে তৎপর মুফতিরাতো নয়ই। সারাদিন ধরে ভার্চুয়াল জগতে জাঁদরেল আলেম সেজে বসারাও সে কাজটি করতে পারেন নি।
এটা আমাদের জন্য আনন্দের ঘটনা এই কারণে যে, দ্বীন মুহাম্মদ শেখ ইসলাম গ্রহণ করে আরবি শিখেছেন, কুরআন শিখেছেন, হাদিস শিখেছেন এরপরে নিজেই নেমে পড়েছেন বিশ্বের সকলের কাছে ইসলামের বাণী, কুরআনের বাণী পৌছে দিতে! তার ইচ্ছা, বিশ্বের সকলেই যেন মুসলমান হয়ে যায়! আহা, কি বিরাট আশা!
বিশ্বমানবতার জন্য কি বিরাট কল্যাণকামীতা। গত তিরিশ বসরে লক্ষাধিক লোক তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণও করেছেন!
অথচ তিনি জন্মেছেন এক হিন্দু পরিবারে। কৈশোর বয়সেই লুকিয়ে লুকিয়ে কুরআনের অনূবাদ পড়তেন, কোথাও কুরআনের আওয়াজ ভেসে আসলে মন দিয়ে তা শুনতেন। ক্রমে ক্রমে তা বেড়েই চলে, একটা পর্যায়ে এটা যেন তার নেশায় পরিণত হয়!
কুরআনের প্রতি তার সীমাহীন এই আগ্রহ ও টান কিভাবে যেন মা’ও টের পেয়ে যান। মা-বাবা ও পরিবারের সকলেই বকাঝকা থেকে শুরু করে তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে কুরআনের প্রতি দ্বীন মুহাম্মদ শেখের টান কমাতে। কুরআনের দিক থেকে তার মনযোগ ফেরাতে। কিন্তু তাদের সব চেষ্টা-প্রচেষ্টা বিফল হয়েছে শোচনীয়ভাবে।
অবস্থা বেগতিক দেখে মা মাত্র পনেরো বসর বয়সেই তাকে এক হিন্দু মেয়ের সাথে বিয়েও দিয়ে দেন, এই আশায় যে, যৌবনবতী স্ত্রীর টানে হয়তো দ্বীন মুহাম্মদের মন থেকে কুরআনের টান কমে আসবে। কিন্তু এতেও কোন লাভ হয় নি। ঘটেছে উল্টোটাই! দ্বীন মুহাম্মদ শেখের মনে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ আরও বেশিমাত্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।
এ পর্যায়ে দ্বীন মুহাম্মদ শেখের পরিবার, আত্মীয় স্বজন তার উপরে ক্ষিপ্ত হেয় উঠে। আপনজনদের পক্ষ থেকে শুরু হয় ভীতি প্রদর্শন আর অত্যাচার নির্যাতন। বিষয়টা দ্বীন মুহাম্মদ শেখের কাছেও ধৈর্য আর সহ্যের বাইরে চলে গেল। তিনি চুড়ান্ত স্বিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন।
ভাগ্য তার জন্য সুপ্রসন্ন ছিল। তারই এক চাচা, বলাই বাহুল্য, তিনিও হিন্দু, এসে জুটলেন দ্বীন মুহাম্মদ শেখের সাথে। তিনিও ইসলাম গ্রহণ করবেন। উভয়ে মিলে ১৯৮৯ খৃষ্টাব্দে প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন দেব দেবি মুর্তিপূজায় তাদের কোন বিশ্বাস নেই, কোন সম্পর্কও নেই। এর পরপরই তারা উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
এর পরেই শুরু হলো চাচা ভাতিজার মিশন। আশে পাশে সবাইকে মুসলমান বানাবেন! তবে সবার আগে তারা সায়েন মুহাম্মদ জাগশি নামের স্থানীয় এক আলেমের কাছে কুরআন পড়া শিখলেন, ফিক্বহ ও হাদিস পড়লেন কয়েক বসর।
বিশ্ববাসীর কাছে ইসলাম তুলে ধরার মিশনে নেমে দ্বীন মুহাম্মদ শেখ অপ্রত্যাশিতভাবে সফলতা পেতে থাকলেন। স্থানীয় পাকিস্থানী মুসলমানরা তার সাহায্যে এগিয়ে এলেন। পাকিস্থান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার জেনারেল সিকান্দার হায়াতসহ অনেকেই তাকে আর্থিক সাহায্য করতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখান করলেন।
তবে তাদের সকলকে অনুরোধ করলেন নওমুসলিমদের নিজ নিজ যোগ্যতানুযায়ী কোন একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেবার জন্য। 
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সিকান্দার হায়াতের ঐ অঞ্চলে একটা চিনির মিল আছে, তিনি সেই মিলে নওমুসলিমদের মধ্যে অনেকেরই চাকুরির ব্যবস্থা করে দিলেন।
দ্বীন মুহাম্মদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা ইসলাম গ্রহণ করলেন, তিনি তাদেরকে নামাজ শেখালেন। প্রথম চল্লিশদিন কেবলমাত্র ফরজ নামাজগুলোই আদায় করতে বললেন। চল্লিশ দিন পর থেকে অন্যান্য নামাজগুলোও শুরু করালেন। এভাবেই তাদেরকে নামাজে পাবন্দী করে গড়ে তুললেন।
সময় গড়িয়ে যাবার সাথে সাথে তার হাতে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েই চললো। যারা ইসলাম গ্রহণ করলো, তিনি তাদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করাসহ পূনর্বাসনেও এগিয়ে এলেন। নিজের বাড়ির পেছনের অংশে এইসব নওমুসলিমদের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন ‘জামেয়া আল্লাহওয়ালী’ নামের এক মসজিদ।
এইসব নওমুসলিম এবং তাদের পরিবার পরিজন ও সন্তান সন্ততিদেরকে কুরআন হাদিস তথা ইসলাম শেখানো জন্য প্রতিষ্ঠা করলেন ‘মাদ্রাসা-ই-আয়েশা ও তালিমুল কুরআন’!
ইসলামের প্রতি দ্বীন মুহাম্মদ শেখের নিষ্ঠা, শ্রম আন্তরিকতা আর এক আল্লাহর প্রতি তার অগাধ নির্ভরতা অবিশ্বাস্য ফল এনে দিল। হিন্দু ধর্ম থেকে সাতচল্লিশ বসর বয়সে ইসলাম গ্রহণকারী এ নওমুসলিমের হাতে আজ পর্যন্ত এক লক্ষ আট হাজার (১০৮০০০) মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন! (সুত্র: পাকিস্থানের ইংরেজি পত্রিকা The Express Tribune, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ সংখ্যা)
স্থানীয় হিন্দুরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপরে বেশ কয়েকবার আক্রমণ করেছে, একবার অপহরণও করা হয়েছিল তার পুত্রবধূসহ, কিন্তু তিনি দমে যান নি। তার মিশনও বন্ধ করেন নি। আশ্চর্জের বিষয় হলো, দ্বীন মুহাম্মদ আজ পর্যন্ত যে লক্ষাধীক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে, তাদের প্রত্যেকের সাথে কোন না কোনভাবে সংযোগ রক্ষা করে চলেছেন। প্রত্যেকের নাম ঠিকানা ও ফোন নম্বর রেখেছেন নিজ সংগ্রহে।
দ্বীন মুহাম্মদ শেখের এই অসাধ্য সাধনের মধ্যে আমাদের জন্য এক বার্তা রয়েছে। আমরা যদি সে বার্তাটি এখনও ধরতে না পারি, তা হলে বুঝতে হবে আসলেই আমাদের ললাটে দু:খ আছে।

সুত্র: পাকিস্থানের ইংরেজি পত্রিকা The Express Tribune, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ সংখ্যা

#মন্দিরে যেতে নিষেধ করায় ৬ পরিবারের ইসলাম গ্রহণ


##ভারতে একই সাথে ১০০ পরিবারের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ১০০ দলিত পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। জমি দখল এবং ধর্ষণের ঘটনায় উচ্চবর্ণের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে সুবিচার চেয়ে ধর্না দিচ্ছিল। আন্দোলনরত পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

অবশেষে গত শনিবার তারা ইসলাম গ্রহণ করেন। আন্দোলনরতদের দাবি ছিল, ভাগানা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং শামলাত ভূমি থেকে অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে হবে।

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারের সঙ্গে দেখা করে দাবিও জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস না পেয়ে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
ভাগানা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ,
সুবিচার পাওয়ার আশায় তারা মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারের সঙ্গে চারবার দেখা করেছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছেও অনেকবার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হিসার (হরিয়ানা) প্রশাসন নীরব থেকেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২১ মে হরিয়ানার ভাগানা গ্রামে উচ্চবর্ণের লোকদের সঙ্গে দলিতদের বিবাদ শুরু হয়। এ সময় ৫২ টি পরিবারের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

শামলাতে একটি জমি থেকে অবৈধ দখলদারি মুক্ত করার দাবিকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হয়। গ্রামবাসীরা দলিতদের একঘরে করে দিলে তারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন।

পরে ভাগানা গ্রামের ৪ দলিত নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
ভাগানা কা- সংঘর্ষ সমিতি বা বিকেএসএস’র প্রেসিডেন্ট বীরেন্দর বাগোরিয়া বলেছেন, উচ্চবর্ণের লোকেরা আমাদের মানুষ বলেই মনে করতে চায় না,

তাই ওই ধর্মে থাকার আর যৌক্তিকতা কোথায়?
তিনি বলেছেন, মৌলবি আব্দুল হানিফের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তারা কলেমা পড়ে নামাজ পড়েছেন বলেও জানান বীরেন্দর বাগোরিয়া। 
সূত্র,  আওয়ার ইসলাম 16 আগষ্ট 2019

জাপানি তরুণ কিয়োচিরো সুগিমোটোর ইসলাম গ্রহণ

আওয়ার ইসলাম: কিয়োচিরো সুগিমোটো জাপানের সামুরাই সোর্ড তৈরির জন্য বিখ্যাত শহর জিফুর অধিবাসী। তবে তিনি বর্তমানে জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন।

বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে ১৯৯৭ সালে ইসলাম গ্রহণ করেছেন জাপানি এ তরুণ। জাপানে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে নিরলস পরিশ্রম এবং অসামান্য অবদান রেখে চলছেন তিনি। বর্তমানে তিনি জাপানি প্রাকটিসিং মুসলিম ও ইসলামের খ্যাতনামা দাঈ।

ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণা ও স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‌১৯৯৬ এর দিকে আমি বাংলাদেশে যাই। বাংলাদেশে মুসলিমদের দয়া ও হৃদয়গ্রাহী আন্তরিকতায় আমাকে মুগ্ধ করে। ইসলামের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের মুসলমানদের জীবনাচার থেকে ইসলামি শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক ধারণা লাভ করি।

বাংলাদেশের মুসলমানদের আন্তরিকতা ও ইসলামের সুমহান শিক্ষার ইতিবাচক ধারণা লাভের পর কিছুদিন জাপানিজ ভাষায় অনূদিত কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেন কিয়াচিরো সুগিমোটো। জাপানি ভাষায় অনূদিত কুরআন পড়ে ইসলাম সম্পর্কে অনুপ্রেরণা লাভ করেন তিনি। সেখানে আল্লাহ তায়ালা ও পরকালের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা পান।

সুরা কাসাসের ৮৮ নং আয়াতটিকে নিজের মনে গেথে নেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‌‌আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহকে ডেকো না, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই, তাঁর (সত্তা) ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই আর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।’

সুরা কাসাসের ৮৮ নং আয়াতটিকে নিজের মনে গেথে নেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‌‌আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহকে ডেকো না, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই, তাঁর (সত্তা) ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই আর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।’

এ আয়াতে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি ১৯৯৭ সালে ইসলামের সুমহান পতাকাতলে আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহকে অমান্য করি, উপেক্ষা করি। অথচ একটি সময় সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। আমাদের তার সামনেই দাঁড়াতে হবে।’ দুনিয়ার সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া, আবার তার কাছে ফিরে যাওয়া এবং তার সামনে দাঁড়ানোর বিষয়টিই আমার অন্তরে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। যে প্রতিক্রিয়ায় আমি ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হই।
কিয়োচিরো সুগিমোটো বর্তমানে ইসলামের একজন দাঈ হিসেবে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা ইরার একজন সদস্য।

আওয়ার ইসলাম, 19 আগষ্ট 2019
জুমার নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখে ইসলাম গ্রহণ করলেন মাইকেল জ্যাকসনের আইনজীবী

আওয়ার ইসলাম: যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা মার্ক সাফার ২০০৯ সালে ১০ দিনের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণে গিয়ে জুমার নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখে ইসলাম গ্রহণ করেন মাইকেল জ্যাকসনের আইনজীবী।

এ সময় তার গাইড ছিলেন দাবি বিন নাসির। তিনি জানান, মার্ক সাফার রিয়াদে পৌঁছেই ইসলাম ধর্ম ও ইবাদত পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান।

রিয়াদে দুইদনি অবস্থান করে নাজরানে চলে যান মার্ক সাফার। আবা ও আল-উলা পরিদর্শন করে এ সময় তার সঙ্গে আমরা আরব তিন যুবক ছিলাম। আমরা মরুভূমিতে নামাজ পড়তাম আর সেই দৃশ্য খুব কাছ থেকেই দেখতেন সাফার।

দাবি বিন নাসির বলেন, তিনি আবা ও উলা থেকে আল-জাউফ গেলে ইসলাম সম্পর্কে আমরা তাকে কয়েকটি বই দেই। বইগুলো তিনি বেশ মনোযোগের সঙ্গে পড়েন।

পরে নামাজ আদায়ের নিয়ম-কানুন শিখতে চাইলে জাউফে আমি তাকে ওজুর নিয়ম এবং পরে নামাজ পড়ার নিয়ম শেখাই। এরপর তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, পরে মার্ক সাফার জেদ্দায় গিয়ে আমাদের সঙ্গে শুক্রবারের জুমার নামাজের প্রস্তুতি নেন এবং আমরা তাকে মসজিদে স্বাগত জানাই।

মুসলমানদের জুমার নামাজ আদায়ের দৃশ্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ বিনিময়ের দৃশ্য দেখে ইসলামের প্রতি আরও আকৃষ্ট হন সাফার। হোটেলে ফিরেই তিনি ইসলাম গ্রহণে নিজের আগ্রহের কথা জানান।

দাবি বিন নাসির জানান, সাফারকে গোসল করে পবিত্র হতে বলি এবং পরে তাকে কালেমা শাহাদাৎ পাঠ করাই। ইসলাম গ্রহণের পর সাফার দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন।

তিনি বলেন, বাইতুল্লাহ জিয়ারতের আগ্রহ প্রকাশ করলে সাফারকে ইসলাম গ্রহণের সার্টিফিকেট নেয়ার পরামর্শ দেই। জেদ্দা দাওয়াহ (ইসলাম প্রচার) সেন্টারে গিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি পবিত্র বাইতুল্লাহ জিয়ারত করেন।

ইসলাম গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে বললে সাফার বলেন, ‘আমি এতটাই আনন্দিত, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

বিশেষ করে পবিত্র মক্কা ও কাবা শরিফ জিয়ারতের অনুভূতি অপার্থিব বলে মনে হয়। পবিত্র হজ পালনে নগরীতে আবারও ফিরে আসব।

২০০৯ সালে ১৮ অক্টোবর সৌদি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার সময় জেদ্দা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ফরমে নিজেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হিসেবে উল্লেখ করেন সাফার।

সূত্র : আওর ইসলাম 22 আগষ্ট 2019


কুড়িগ্রামে খ্রিষ্টান ধর্ম ছেড়ে পুনরায় ৩১ জনের ইসলাম গ্রহণ

আওয়ার ইসলাম: কুড়িগ্রামে ৩১ জন নারী-পুরুষ খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণের পর পুনরায় ইসলামে ফিরে এসেছেন। খ্রিস্টান মিশনারীর বিভিন্ন সংস্থার নানা রকম প্রলোভনে তারা খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল।

গত বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন সাবিলুর রাশাদ ক্যাডেট মাদরাসায় এসে তারা আবারও কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।

নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের মুফতি শামসুদ্দিন তাদের কালিমা পড়িয়ে পুনরায় ইসলামে দীক্ষিত করেন। এ সময় তালিমুদ্দিন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আবদুস সবুর খান, খুতবা টিভির পরিচালক আমিনুল ইসলাম এবং ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের মাওলানা আব্দুল বাসির উপস্থিত ছিলেন।

সাবিলুর রাশাদ ক্যাডেট মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মোহাম্মদ ফেরদাউস হাসানের তথ্য মতে, ‘এ ৩১ নারী-পুরুষ সবাই আগে মুসলিম ছিলেন। বিভিন্ন সময় খ্রিস্টান মিশনারী পরিচালিত সংস্থাগুলোর নানা প্রলোভন ও আর্থিক সহায়তায় তারা দলবদ্ধভাবে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল।’

খ্রিস্টান হওয়ার পর তাদেরকে পুনরায় মুসলিম হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সেচ্ছায় পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে জানান হাফেজ ফেরদাউস।

আর্থিক প্রলোভন ও কুরআনের অপব্যাখ্যায় মুসলিমদেরকে নিজ ধর্ম থেকে অন্য ধর্মাবলম্বী করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কুড়িগ্রামের আলেম-ওলামা সরকারের কাছে দাবি জানান। তারা আরও বলেন, ‘ধর্ম প্রচারের অধিকার সবারই আছে। তবে আর্থিক প্রলোভন ও অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্ম প্রচারের অধিকার কারো নেই।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জানাযার সালাম প্রসঙ্গ

  জানাযায় এক সালাম না দুই সালাম, একটি দালীলিক পর্যালোচনা হানাফী এবং শাফী মাযহাবের গবেষণায় জানাযার নামাজে দুই দিকে সালাম ফেরাতে হবে ৷ আর মালেকি মাযহাব মতে জানাযার নামাজে এক দিকে সালাম ফেরাতে হবে ৷ অপরদিকে হাম্বলি মাযহাবে জানাযায় এক সালাম ফেরানোটা নামাযের রুকোন ( গুরূত্বপূর্ণ কাজ) ৷ তবে যদি দ্বিতীয় সালাম ফিরিয়েও নেয় সমস্যা নেই, নামাজ হয়ে যাবে ৷ এমনিভাবে ইমাম শাফেয়ী ইমাম মালেক রহ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই তিন ইমামের নিকটই সালাম জানাযার নামাজের রুকোন ৷ কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রহ, এর  নিকট সালাম জানাযার রুকোন নয় বরং ওয়াজিব ৷ হানাফী মাযহাবের কুরআন-হাদীস ও যৌক্তিক উভয় প্রকারের শক্তিশালি দলীল রয়েছে ৷ (1)ইবরাহিম হাজারী থেকে বর্ণিত যে, একবার আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা র. নিজের কন্যার জানাযার নামাজ পড়াচ্ছিলেন, তখন তিনি চার তাকবীর বলেন ৷ তারপর অনেকক্ষণ থেমে যান, এমনকি আমরা ভাবছিলাম, তিনি হয়ত পঞ্চম তাকবীর বলবেন ৷ কিন্তু তারপর তিনি ডান দিকে সালাম ফেরান, অতপর বাম দিকে সালাম ফেরান এবং বলেন এভাবেই রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার নামাজ পড়াতেন ৷ -বায়হাকীকৃত সুনানে কুবরা (4/71...

কুফর শিরক ও বেদআত নির্মূলে ওলামায়ে দেওবন্দের ভূমিকা

প্রতিটি মুমিনের জীবনের অমূল্য সম্পদ ঈমান ৷ আত্মাহীন দেহ যেমন লাশ ৷ তেমনি ঈমানহীন জীবনও অভিশাপ ৷ তাই বৈষয়িক সম্পদকে যতটুকো গুরূত্বের সাথে হেফাজত করতে হয়, তার চেয়ে অধিক সতর্ক থাকতে হয়  দুজাহানের মূলধন ঈমানের ব্যপারে ৷  প্রতিটি মূল্যবান জিনিসেই থাকে বেশ কিছু ভয়ের দিক ৷ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় ৷ হারিয়ে যাওয়ার ভয় ৷ চোর ডাকাতের ভয় ৷ বস্তুর গুরূত্ব ও মূল্যের ভিত্তিতে তার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রস্তুতি নেয়া হয় ৷ যে জিনিস নষ্ট হলে মালিকের ক্ষতির পরিমান বেশী হয় তার জন্য ততোবেশী মনোযোগ নিবিষ্ট করতে হয় ৷ মেহনত মুজাহাদা করতে হয় ৷ অর্থকড়ি খরচ করতে হয় ৷ প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হয় !  ঈমান এমনই একটি বিষয়, যার শুদ্ধতার সাথে সকল আমলের শুভ্রতা জড়ানো ৷ যার পরিচয়ের সাথে শেকড়ের হাজারো গল্প ছড়ানো ৷ যার পূর্ণতার সাথে দুনিয়া আখেরাতের সকল সফলতা মোড়ানো ৷ তাই এই অমূল্য সম্পদ কে রক্ষা করার জন্য যুগে যুগে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে! ভয় শঙ্কার বিষয়গুলো কে দূরে রাখা হয়েছে ৷ চোর ডাকাতের হামলা থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা ...

vaskorjo o murti haram